বাড়াবাড়ি দেখলে বলতে ইচ্ছা করে ‘তোরা রাজাকার, তোরা আল-বদর’: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জেনে পাকিস্তানের এমপি যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন, তা এখনো ভুলতে পারেন না, বলেন তিনি।
পাকিস্তানে এক সম্মেলনে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কারণে তিনি যে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সে পরিস্থিতির কথা তিনি এখনো ভুলতে পারেননি তুলে ধরে বলেন, “যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল-শামস, তোরা আল-বদর।”
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নরসিংদী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তর দেখেছি, বর্ডারে যুদ্ধ করেছি, বিলোনিয়া সীমান্তে। আজকে যারা গণতন্ত্রের ছবক দিয়ে চায়, যারা একাত্তরকে চব্বিশের সাথে সম্পৃক্ত করতে চায়, খাটো করে দেখতে চায়...একটি কথাই বলতে চাই, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সাথে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।”
তিনি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয়, এ সংসদ থেকে কমিটি করেছেন।”
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে বেশি বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করে বকুল বলেন, “পাকিস্তানে গিয়েছিলাম ২০০৪ সনে। জামায়াতে ইসলামীর একজন এমপি আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন সাফমা (সাউথ আফ্রিকান ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন) কনফারেন্সে।
“আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে পাকিস্তানের অ্যাসেম্বলির একজন এমপি জামায়াতে ইসলামীর এমপির সাথে যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য আমাকে করেছিলেন, আমি সে পরিস্থিতি ভুলতে পারি না, কারণ আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম।”
তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চুপ করে থাকি, কিছু বলি না। কিন্তু যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল-শামস, তোরা আল-বদর।”
স্বাধীনতার পর ধানমন্ডির ২ নম্বরের একটি সাদা বাড়িতে আটকে রাখা নির্যাতিত নারীদের করুণ দশা দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সে ইতিহাস তারা ভুলে যাননি।
স্বাধীন দেশকে গড়ার লক্ষ্যে ঐক্য করতে চান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে ঐক্য হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করে দেন।
তার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অল্প সময়েই তিনি দেখিয়েছেন যে তিনি ভিন্নভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন।
জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বকুল বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা, ৭ নভেম্বর, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই পরিবারের ভূমিকা রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি হঠাৎ করে হয়নি; বহু বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, আন্দোলন ও প্রতিরোধের ফল হিসেবেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেমন একদিনে ঘটে না, জুলাই বিপ্লবও একদিনে হয়নি।”
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের স্বার্থে সহনশীলতা দেখাচ্ছে, কিন্তু অযথা ‘উসকানি’ দেওয়া ঠিক হবে না।
তার ভাষায়, ঐক্যের কথা বলে সংসদে এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাইকে সংযত থাকতে হবে।
