২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুটানের সঙ্গে আরও জোরালো সর্ম্পক চান মুহাম্মদ ইউনূস

ইউনূস দুই ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Oct 2024, 06:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:44 AM

ভুটানের সঙ্গে সর্ম্পক আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েনসিল বুধবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এমন আগ্রহের কথা জানান। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ভুটানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পাশাপাশি হিমালয় রাজ্যে বৌদ্ধ ধর্মে বঙ্গের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউনূস দুই ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

ভুটানের রাষ্ট্রদূত ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ ভুটানের একমাত্র বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশ। 

তিনি পিটিএতে আরও পণ্য অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান। কারণ দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রশংসা করে বলেন, এই স্মারক অনুযায়ী ভুটান ইতিমধ্যেই একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে।

রাষ্ট্রদূত কুয়েনসিল আরও তুলে ধরেন, কীভাবে বাংলাদেশি বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিতরা তিব্বত, নেপাল ও ভুটানে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেছিলেন। 

তিনি অষ্টম শতাব্দীর ভিক্ষু শান্তরক্ষিতের কথা বলেন, যিনি তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম পুনরুজ্জীবিত করা দশম শতাব্দীর ভিক্ষু অতীশ দীপঙ্করের পূর্বপুরুষ ছিলেন। দুজনেই বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

কুয়েনসিল বলেন, পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ভানারত্ন নামের আরেক বৌদ্ধ পণ্ডিত ভুটান সফর করেন এবং সেখানে বুদ্ধের একটি মূর্তি ও একটি মঠ স্থাপন করেন। আজও ভুটানের মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইশরাত জাহানও উপস্থিত ছিলেন।