৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে পিকেএসএফ: তিতুমীর
“আমরা বাস্তবসম্মত ইশতেহার দিয়েছিলাম। সেজন্যই জনগণ আস্থা রেখে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে,” বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তবে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কীভাবে এত কর্মসংস্থান হবে, প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা তা স্পষ্ট করেননি ।
শনিবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা তিতুমীর।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। কথা হয় সরকারের পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন ও সংস্কার বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও। পরে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের সারাংশ তুলে ধরেন তিতুমীর।
কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারপ্রধানের এ উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা জেনে খুশি হবেন, যেটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা, অর্থাৎ কর্মসংস্থানহীনতা। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া… আপনারা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছেন যে, অতীতে পতিত সরকারের সময় বেকারত্বের মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তো এইখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে তারা উল্লেখ করেছেন যে, তারা কী ধরনের কর্মসংস্থান করবেন।
“এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বলেছে যে তারা পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান করবে। তার মানে হচ্ছে যে, কর্মসংস্থান নিয়ে অনেক ধরনের সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছিল, সেই সংশয় কিন্তু থাকছে না।
“…কারণ তারা উল্লেখ করেছেন, এটা কিন্তু সরকার তাদের দায়িত্ব দেয়নি। তারাই তাদের স্বেচ্ছাপ্রবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং তার পরিমাণ। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, একটি ফাউন্ডেশন বলেছে, তারা নিজেরাই এক কোটি কর্মসংস্থান করবে। তার সঙ্গে নারী সংস্থা আছে, তার সঙ্গে যে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশন আছে, দারিদ্র্য ফাউন্ডেশন আছে। তার মানে হচ্ছে যে সংখ্যাটা এক কোটির বেশি।”
বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির কথা আছে। সেখানে একটি ফাউন্ডেশন একাই কীভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, সেই প্রশ্ন রাখা হয় অর্থ উপদেষ্টার কাছে।
জবাবে তিতুমীর বলেন, “আমরা বাস্তবসম্মত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। সে কারণেই জনগণ আস্থা রেখে আমাদেরকে নির্বাচিত করে দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা সবসময় ন্যূনতম সংখ্যা বিতরণ করে থাকি।
“এগুলো (কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা) স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান তারা উপস্থাপন করেছেন। আমরা যেটা তাদের সঙ্গে উল্লেখ করেছি সেটি হচ্ছে যে, আমাদের যে পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) আছে, তারা এটা প্রতিনিয়ত (হালনাগাদ তথ্য) আপনাদেরকে জানাবে।”
কোন ফাউন্ডেশন এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, তা স্পষ্ট করেননি উপদেষ্টা। পরে সাংবাদিকরা বারবার এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অনুসন্ধান করে বের করার কথা বলেন।
পরে তাতেও সাংবাদিকদের এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছ থেকে শুনলে বলেন, আমি তো বলছি যে পিকেএসএফ। আপনারা চেষ্টা করতে চান না, এটা প্রমাণিত হয়ে গেল।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়; অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি আমদানি করেও এর ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।
এই সংকটের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ‘আমদানি নির্ভর’ নীতিকে দুষছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে বিদ্যুতের আজকের যে সংকট, এটা ১৭ বছরে পতিত সরকার থেকে আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছি। এ বিষয়ে দেশের যারা বিশেষজ্ঞ, তারাই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
“আমাদের চেষ্টা হচ্ছে যে এনার্জি মিক্স করা। তাহলে সেটা করতে গেলে আমাদের দেখতে হবে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, অর্থাৎ আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৌর বিদ্যুৎ বা অন্যান্য নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎতের দিকে যেতে হবে।”
তার ভাষায়, “ইতিমধ্যেই আমাদের দুই গিগাওয়াট কীভাবে হবে এবং তার অর্থায়ন কী হবে সেটির কিন্তু পরিকল্পনা খসড়া আকারে গৃহীত হয়েছে। যেমন হচ্ছে যে আপনাদের মনে আছে, বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সেটি খেয়াল করেন যে, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, যিনি আজ গ্রাহক, তিনি কীভাবে উৎপাদক হতে পারেন।
