ঢাবির বিশেষ সমাবর্তনে থাকছেন না রাষ্ট্রপতি
এই সমাবর্তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ (মরণোত্তর) ডিগ্রি দেওয়া হবে। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তার সম্মতিতে রোববার এ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই সমাবর্তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ (মরণোত্তর) ডিগ্রি দেওয়া হবে। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
“তবে অসুস্থতার কারণে সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন উপস্থিত থাকবেন না। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ আর্টিকেল ১০(১) অনুযায়ী আচার্যের সম্মতিতে আমি (উপাচার্য আখতারুজ্জামান) সভাপতিত্ব করব।”
রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই বিশেষ সমাবর্তন হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথি মিলে ১৮ হাজার লোক উপস্থিত থাকবেন বলে জানান উপাচার্য।
তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী ১২ হাজার ৪৯৬ জন, শিক্ষক প্রায় ৭৫০ জন, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ১ হাজার জন, অ্যালামনাই ৫০০ জন, বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রায় ১৫০ জন এবং অতিথি প্রায় ৩ হাজার।
অতিথিদের মধ্যে থাকবেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য, মন্ত্রীবর্গ ও সংসদ সদস্য, ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সুধীজন।
# নির্দেশনা
সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানের আইডি বা পাসপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে। আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়। সমাবর্তনস্থলে মোবাইল ফোন, হাতব্যাগ, ব্রিফকেস, ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ছাতা ও পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সকাল ১০টায় সমাবর্তন শোভাযাত্রার আরম্ভস্থল কার্জন হল প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা জিমনেসিয়াম সংলগ্ন গেইট দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করবেন। তাদের জন্য সকাল ৮টায় গেইট খোলা হবে এবং তারা সকাল ১০টার মধ্যে অবশ্যই সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানস্থলে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মঞ্চের আশপাশে বা অন্যান্য স্থানে ঘোরাফেরা করা যাবে না।
অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা সুইমিং পুল সংলগ্ন গেইট দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করবেন। তাদের জন্য সকাল ৯টায় গেইট খোলা হবে এবং তারা সকাল ১০টার মধ্যে অবশ্যই সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করবেন।
# গাড়ি পার্কিং
সমাবর্তনের দিন ভিআইপি অতিথিদের গাড়ি কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান ভবন (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সায়েন্স এনেক্স ভবন) মাঠে ও মোকারকম ভবন চত্বরে (কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর পাশে) রাখের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের গাড়ি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল খেলার মাঠে রাখতে হবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো রাস্তায় গাড়ি না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
# বন্ধ থাকবে যেসব রাস্তা
সমাবর্তনের দিন সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শাহবাগ ক্রসিং থেকে দোয়েল চত্বর, হাই কোর্ট থেকে দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে দোয়েল চত্বর, পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর এবং নীলক্ষেত থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, “সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য ওইদিন বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হল। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। সমাবর্তনের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ থেকে টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে হাই কোর্ট মোড় পর্যন্ত মেট্রোরেলের নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হল।”
# সবার সহযোগিতা কামনা
সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য ।
সমাবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সকল রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও উপাচার্য আহ্বান জানান।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
