হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা উচিত: তসলিমা নাসরিন
“আমাদের অনেকেরই দেশ ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”
নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
প্রায় দুই দশক বাদে কলকাতায় ফেরা এ লেখক আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
রোববার কলকাতায় তসলিমা নাসরিন বলেন, “আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে যে ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল ছিল। এটি ছিল অগণতান্ত্রিক। দলটিকে নিষিদ্ধ করা ছিল পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক।
“তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন।”
আওয়ামী লীগকে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়েছে বলে তসলিমা নাসরিন বক্তব্য দিলেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ভারতে যান শেখ হাসিনা। জুলাই অভ্যুত্থান দমনের মানবতাবিরোধী মামলায় গত নভেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাই কোর্টের আদেশের পর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গণআন্দোলন ও সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন, যাদের বড় অংশই প্রাণ হারান নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তসলিমা নাসরিন ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও কড়া সমালোচনা করেন।
তার ভাষায়, “আমার মনে হয় কোনো মাদ্রাসার প্রয়োজন নেই। এগুলো শুধু জিহাদি তৈরি করে। সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা উচিত।”
কলকাতায় ফিরতে আমন্ত্রণ জানানোয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন।
তিনি বলেন, “১৯ বছর পরে আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখি না। নবনির্বাচিত সরকার আমার থাকার সময়ে বাংলায় নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের ফেরা উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামী শ্রোতাদের একাংশের বাধার মুখে পড়েন। ‘অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত’ ঘটলে তসলিমা কিছুক্ষণ মঞ্চে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন হস্লোগান আর চিৎকারে উত্তাল হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পরদিন তসলিমা বলেন, “বিষয়টি আমাকে ভীষণ পীড়া দিয়েছে। এটা কেবল জয়ের জন্য নয়, আমার জন্যও একটি অপমান। কারও সঙ্গে মতের অমিল বা বৈরিতা থাকতে পারে, কিন্তু সবারই কথা বলার অধিকার রয়েছে।
“জয় গোস্বামী কথা বলুন—তাও অনেকে চাননি? আমি খুব কষ্ট পেয়েছি, আশা করি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।”
বাংলাদেশে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র, সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, বিপদে পড়া হিন্দুদের সাহায্য করার জন্য তাকে মূল্য দিতে হয়েছে।
“আমাদের মতো অনেকেই চিন্ময়ের পক্ষে কথা বলছেন। মুক্তচিন্তার মানুষদের ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমাদের অনেকেরই দেশ ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।”
