প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: হাসিনা-জয়-পুতুলদের মামলায় আরো ১০ জনের সাক্ষ্য
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ঠিক করেছে আদালত।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
বুধবার তিন মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য শোনেন জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তাদের সাক্ষ্য শেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ঠিক করেছে আদালত।
সাক্ষীরা হলেন-ঢাকার তৎকালীন মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একান্ত সহকারীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওসমান গনি, সোনালী ব্যাংকের গণভবন শাখার প্রধান ক্যাশিয়ার রিয়াদ মাহমুদ, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রার মিঠুন চন্দ্র বালা এবং নাহিদ হোসেন।
দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান (লিপন) বলেন, আদালত থেকে পাঁচ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে সমন পাঠানো হয়েছিল।
“আজ তারা আদালতে এসে সাক্ষ্য দেন। তিন মামলায় ১০ জন সাক্ষ্য দিলেন।”
আসামিরা পলাতক থাকায় সাক্ষীদের জেরা হয়নি।
এর আগে গত ১১ অগাস্ট প্রথম দিনে তিন মামলার তিন বাদী, ২৬ অগাস্ট পৃথক তিন মামলায় ১৭ জন এবং তৃতীয় দিন ২ সেপ্টেম্বর ১৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ৩১ জুলাই পৃথক ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।
এসব মামলার শেখ পরিবারের অন্য আসামিরা হলেন- শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক।
শেখ পরিবার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে এই ছয় মামলা করে দুদক। সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, “সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
