পেট্রোবাংলার নিয়োগ থেকে বাদ ১৫ প্রার্থী, মন্ত্রীর কাছে বিবেচনার আবেদন
বাদ পড়া ১৫ জনের পক্ষে থেকে এ আবেদন করেন সুপারিশ পাওয়া এক সহকারী ব্যবস্থাপক।
পেট্রোবাংলা ও এর অধীন কোম্পানিগুলোর সমন্বিত নিয়োগের প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৫ প্রার্থী নিয়োগ পেতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন।
বাদ পড়াদের পক্ষে রোববার মন্ত্রী বরাবর এ আবেদন জমা দেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডে (বিসিএমসিএল) সুপারিশ পাওয়া সহকারী ব্যবস্থাপক (এনভায়রনমেন্ট) শিহাব উদ্দিন।
২০২৪ সালের ৫ মার্চ ৬৭০টি পদের সমন্বিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া শেষে ১১ নভেম্বর প্রার্থীদের মেডিকেল পরীক্ষা শেষ হয়।
বাদ পড়া প্রার্থীদের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, “নিয়োগের প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অস্বচ্ছভাবে ১৫ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে, কেন বাদ দেওয়া হয়েছে এসব কারণ অজানা। বাংলাদেশের নানা প্রান্তে থাকা কোম্পানিগুলোতে গিয়ে মেডিকেল টেস্ট জমা দিতে হয়েছে। এতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। অথচ নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় আমাদের প্রহসন করা হল। এই ১৫ জনের কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নয়, কারও নামে কোনো মামলা বা অভিযোগও নেই। বরং আমরা জুলাইয়ের গণআন্দোলনে সরাসরি যুক্ত।”
এ বিষয়ে এই নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা পেট্রোবাংলার তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) এস এম মাহবুব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রার্থীরা কেন বাদ পড়েছে, তা কোম্পানিগুলোই ভালো বলতে পারবে। আর এই ১৫ জনকে নিয়ে কী হচ্ছে সেটা আমি জানি না, কারণ আমি এখন সেই দায়িত্বে নাই।”
একই কথা বলছেন পেট্রোবাংলার মহাপরিচালক (প্রশাসন) শাহানা বেগম। তিনি বলেন, “১৫ জনের আবেদনের কোনো কপি আমি পাইনি। তাছাড়া এই বিষয়টি আমার জানা নেই।”
এদিকে মন্ত্রীর কাছে আবেদনে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের হতাশার কথা তুলে ধরেন। বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের অনেকেরই চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ। ভীষণ হতাশায় আমাদের খুব অসহায় লাগে, নিজেদের বেঁচে থাকাকে অর্থহীন মনে হয়।
“কারণ অনুসন্ধান করে আমরা জানতে পারি যে, প্রাক-জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি পাওয়ার কারণে আমাদের নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্ণিত প্রাক-জীবনবৃত্তান্তে যাচাই-বাছাইয়ে বাস্তবসম্মত তথ্য প্রদান করা হয়নি বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহী কোন মামলা নেই, আমারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক, তাহলে আমাদের সাথে কেন এই বৈষম্য।
“সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো প্রার্থীর উপরে অন্যায়ভাবে বৈষম্য করা হবে না। অতিসম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কাউকেই নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি এবং ৪৯ তম বিসিএস এ কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন (অনুলিপি সংযুক্ত)।”
নিজেদের গ্রাম থেকে উঠে আসা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে চাকরিপ্রার্থীরা আবেদনে লেখেন, “একটি চাকরির অপেক্ষা শুধুমাত্র একজন চাকরি প্রত্যাশীর অপেক্ষা নয়- এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন অসহায় পিতা-মাতার আশা, সন্তানের ভবিষ্যত আর একজন মানুষের আত্মসম্মান।”
এ অবস্থায় তারা তাদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
