২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জুলাই সনদকে ‘জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়’ ভাবার সুযোগ নেই: সাইফুল হক

“জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটে যাওয়ার সুযোগ নেই। এত ভিন্নমত রেখে গণভোটে যাওয়ার প্রশ্ন অবান্তর।”

জুলাই সনদকে ‘জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়’ ভাবার সুযোগ নেই: সাইফুল হক
ঢাকার সেগুনবাগিচায় সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2025, 09:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

‘কিছু রাজনৈতিক দলের সমঝোতায়’ তৈরি হওয়া জুলাই সনদকে জনগণের ‘চূড়ান্ত অভিপ্রায়’ ভাবার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

সোমবার সেগুনবাগিচায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংহতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত জুলাই সনদ সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, “আমরা মনে করি, জুলাই জাতীয় সনদে দলগুলো সই করার পর আর কোনো অঙ্গীকারনামার প্রয়োজন হয় না। কারণ সই করাটা অঙ্গীকারনামার চেয়ে বেশি কিছু।

“তারপরও যদি অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারনামার প্রয়োজন বোধ করে, তাহলে ৮ দফা অঙ্গীকারনামার প্রথম দফাটি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।”

গত ১৬ অগাস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া পাঠায় সংস্কার বিষয়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেখানে অঙ্গীকারনামা আটটি বিষয় রয়েছে। 

অঙ্গীকারনামার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।”

আর দ্বিতীয় বলা হয়েছে, “জুলাই সনদের সব বিধান, নীতি ও সিদ্ধান্ত সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করব এবং বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপারিশ প্রাধান্য পাবে।”

এই দ্বিতীয় দফা নিয়ে আপত্তি তুলে সাইফুল হক বলেন, “এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, কোনো সমঝোতা সনদ সংবিধানের চেয়ে প্রাধান্য পেতে পারে না।

“এ প্রস্তাব সংবিধানের দার্শনিক-রাজনৈতিক গুরুত্ব, মৌল ভিত্তি ও মর্যাদার অবনমন ঘটাবে। বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোতে জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়া যাবে কেবল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিছু রাজনৈতিক দলের সমঝোতার দলিলকে জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় বিবেচনা করার কোনো অবকাশ নেই।”

সনদের কোনো বিধান, প্রস্তাব বা সুপারিশ সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসার এখতিয়ারও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের উপর ন্যাস্ত করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটা অপ্রয়োজনীয়। কারণ, যে বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর যে সমঝোতার ভিত্তিতে সনদ সই হবে, সে ব্যাপারে উত্থাপিত প্রশ্নসমূহের ব্যাপারে  নির্বাচিত সংসদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, “সনদে সই করা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বা সনদের বিশেষ কোনো বিধান বা প্রস্তাবের প্রতি কোনো নাগরিকের সমর্থন নাও থাকতে পারে; এটা বিবেচনায় নেওয়া দরকার।”

জুলাই সনদের আইনি সুরক্ষা সম্পর্কে সাইফুল হক বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটে যাওয়ার সুযোগ নেই। এত 'নোট অব ডিসেন্ট 'রেখে গণভোটে যাওয়ার প্রশ্নটাই অবান্তর। সংবিধান সভার নির্বাচনের প্রশ্নটাও অবান্তর। কারণ আমরা সংবিধানশূন্য অবস্থায় নেই। বিদ্যমান সংবিধানের অধীনেই অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে এবং দেশ পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও জুলাই সনদের কাজ করছে বিদ্যমান সংবিধানে ভিত্তিতে। 

“জুলাই সনদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার  বিষয়ে আমাদের অবস্থান ইতিবাচক। সবাই মিলে আলোচনা করে এ সম্পর্কে মতামত গঠন করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সনদ সইয়ের পর সরকারপ্রধান সংবিধানের ১০৬ আর্টিকেল অনুযায়ী উপযুক্ত মাধ্যমে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিকদার হারুন মাহমুদ, সজীব সরকার রতন, কেন্দ্রীয় সদস্য ফিরোজ আলী ও কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।