২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৯ তরুণ লেখক

চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বলেন, তরুণ লেখকেরা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 07:18 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও দেশটিতে নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রবন্ধের জন্য তিন ক্যাটাগরিতে ৯ তরুণ লেখককে ‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ‘চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন এ কে এম কানক পারভেজ।

‘চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ মনসুর আলম। এই বিভাগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন যথাক্রমে মো. আবু কাওসার ও মো. মনজুরুল হাসান।

এছাড়া ‘চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটন গন্তব্য’ বিভাগে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ শোয়াইব।

আয়োজকরা জানান, চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদারে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত ছিল। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা জমা পড়ে।

লেখাগুলো মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল। তারা হলেন– মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বশির উদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।

চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তরুণ লেখকদের অভিনন্দন জানান। 

দুই দেশের সম্পর্কে লেখকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত পুরোনো ও গভীর। আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তরুণ প্রজন্মের এই লেখকেরা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।"

অ্যাবকার সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু কাউসার স্বপন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাইনুল এই আয়োজনের গুরুত্ব ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও অ্যাবকার সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন অ্যাবকার সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার। 

পুরস্কার বিতরণী পর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মিরাজ আহমেদ, পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক সওদাগার মেজবাহ আলম, অ্যাবকার যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হাসান, বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মাদ আদিলসহ দুই দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।