জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া কি আমাদের অপরাধ? আইজিপির প্রশ্ন
বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মনোবল ভাঙেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর।”
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে সহিংস ঘটনায় জড়িত ‘দুষ্কৃতকারীরা’ যেখানেই থাকুক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
সহিংসতায় নিহত তিন পুলিশ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান তুলে দিয়ে বুধবার বুধবার পুলিশ সদরদপ্তরে পুলিশ প্রধান এ কথা বলেন।
নিহত পুলিশ সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন উল্লেখ করে আল মামুন বলেন, “দেশের জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া কি আমাদের অপরাধ?”
এরপরেও বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মনোবল ভাঙেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর।”
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে আইজিপি বলেন, “আপনারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।
“বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্য আপনাদের পাশে রয়েছেন। যে কোনো প্রয়োজনে আমাদেরকে আপনাদের পাশে পাবেন।”
কোটা নিয়ে আন্দোলন গত ১৮ জুলাই সহিংস হয়ে উঠে। সেদিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঢাকার বাড্ডা ও উত্তরায় একাধিক ছাত্রের মৃত্যু হয়।
সেদিন বিকাল থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠে, একের পর এক সরকারি স্থাপনায় হামলা হতে থাকে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এলাকায় সংঘাত ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে এই সংঘাতে জড়িতরা ছাত্র ছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সেদিন এবং এর পরের পাঁচদিনে প্রায় দুইশ মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে, যাদের বেশিরভাগ মারা গেছে গুলিতে। নিহতদের মধ্যে শিশুও আছে।
এই সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিন পুলিশ সদস্যও। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআইতে কর্মরত পরিদর্শক মো. মাসুদ পারভেজ ভুঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই মো. মোক্তাদির এবং ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের নায়েক মো. গিয়াস উদ্দিন। আহত হন এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।
সংঘাতে আনসারের এক সদস্যও প্রাণ হারান। তার পরিবারকেও আর্থিক অনুদান তুলে দেন আইজিপি।
