০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশি সহায়তা কমায় অর্থায়ন ঝুঁকিতে ২২০০ এনজিও: বিআইডিএস

“যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সও আগামী কয়েক বছরের জন্য সাহায্য বাজেট কমিয়ে প্রতিরক্ষায় সরিয়ে নিয়েছে, তাই এই অর্থ সহজে ফিরে আসবে না,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বিদেশি সহায়তা কমায় অর্থায়ন ঝুঁকিতে ২২০০ এনজিও: বিআইডিএস

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলনে কক্ষে মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 05:25 PM

Updated : 06 Oct 2026, 05:35 PM

বিশ্বের দাতা দেশগুলো উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় অর্থায়ন ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ এনজিও।

‘বিদেশ-নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শিরোনামের এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে আসার কথা বলছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান- বিআইডিএস।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলনে কক্ষে মঙ্গলবার গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, “স্থায়ীভাবে বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক সাহায্য দ্রুত কমছে। ২০২৫ সালে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা প্রকৃত মূল্যে ২৩ শতাংশ কমেছে, যা এক বছরে সবচেয়ে বড় পতন।

“যুক্তরাষ্ট্র তার সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সও আগামী কয়েক বছরের জন্য সাহায্য বাজেট কমিয়ে প্রতিরক্ষায় সরিয়ে নিয়েছে, তাই এই অর্থ সহজে ফিরে আসবে না।”

তবে বিদেশি সাহায্য কমার ধাক্কা বাংলাদেশে ‘পুরোপুরি এখানো লাগেনি’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, “আগে অনুমোদিত প্রকল্পের টাকা এখনো ছাড় হচ্ছে। কিন্তু নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ২০২১-২২ সালের ২ হাজার ৬১টি থেকে ২০২৫-২৬ সালে ১ হাজার ৬৫৪টিতে নেমেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে প্রায় ২ হাজার ২০০ ছোট ও মাঝারি এনজিও, যাদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নেই এবং যারা প্রায় পুরোপুরি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।”

শুধু বিদেশি অনুদানে চলা এনজিওগুলোর বাজেট গড়ে ৪০ শতাংশ কমেছে এবং ক্ষুদ্রঋণ আছে এমন এনজিওর ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ শতাংশ, বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও ৪৬টি এনজিওর ওপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়েছেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক।

সংকট সমাধানে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। সেগুলো হল- যোগ্য এনজিওর একটি উন্মুক্ত তালিকা তৈরি করা, যা সরকারি ক্রয়, সিএসআর ও অন্য সব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার এনজিও-বিধান কার্যকর করতে নির্দেশিকা তৈরি করা। এনজিও ফাউন্ডেশন ও পিকেএসএফের মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি এনজিওর জন্য তহবিল গঠন, খসড়া সিএসআর নীতিতে যোগ্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও অব্যয়িত অর্থের বিধান, সামাজিক ব্যবসার আইনি স্বীকৃতি ও কর সুবিধা চালু করা।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে একদিকে তাদের অর্থায়নের বিকল্প তৈরি হবে, অন্যদিকে উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

“মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কাঠামো দরকার। সৃজনশীল অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এই অংশীদারিত্বকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়া প্রয়োজন।”

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এনজিওর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শীতলপাটিসহ স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং মার্কেটিং প্রমোট করতে হবে।”

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা- এই চার শর্ত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এই চার শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।”

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।