১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা বন্ধ ও রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি রক্ষায় হাই কোর্টে আবেদন

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না–সেই মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে তার আবেদনে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Oct 2026, 01:38 PM

Updated : 14 Oct 2026, 01:38 PM

কনসার্ট, বাউল গান, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নৌকাবাইচ ও পহেলা বৈশাখের মত বৈধ সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা, হুমকি ও সহিংসতা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সড়কের দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলা বা নষ্ট করা থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে সেখানে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি মঙ্গলবার এ রিট আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে বিবাদী সেখানে করা হয়েছে।

আইনজীবী অভি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা, ভয়ভীতি, সহিংসতা ও জবরদস্তি বন্ধে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। এ বিষয়ে একটি কার্যপদ্ধতি (এসওপি) প্রণয়নেরও অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি।"

রিট আবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।

মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করা, ২৫ জুন ঢাকায় অনুপম রায়ের কনসার্ট স্থগিত করা, ১৮ অগাস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে একটি অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে বিরোধ, ১৯ অগাস্ট কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজ ও নোবেলের কনসার্ট বাতিল এবং অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে সিলেটের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে নৌকাবাইচ আয়োজনে বাধার ঘটনাগুলো রয়েছে এর মধ্যে।

সেখানে বলা হয়েছে, আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা 'ভেটো' দেওয়ার অধিকার নেই। শান্তিপূর্ণভাবে কোনো আয়োজনের বিরোধিতা করা যেতে পারে, তবে হুমকি, সহিংসতা বা জবরদস্তির মাধ্যমে তা বন্ধ করা বেআইনি।

“কিছু ব্যক্তি বেআইনিভাবে ঢাকার রাস্তার পাশের দেয়ালে আঁকা নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও ধ্বংসের চেষ্টা করছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং শৈল্পিক প্রকাশকে ক্ষুণ্ন করে।”

এই প্রতিকৃতি রক্ষা এবং এর আর কোনো ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ক্রিয়তাকে ‘সংবিধানের লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত ২৩ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরেছেন রিটকারী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না–সেই মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে তার আবেদনে।

পাশাপাশি এসব আয়োজনে শিল্পী, আয়োজক ও দর্শকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অবকাশকালীন ছুটি শেষে এখতিয়ারভুক্ত বেঞ্চে এই রিট মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী।