০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নূর ইসলামের তরফে সংবাদের প্রতিবাদ ‘ফু-ওয়াং’য়ের, প্রতিবেদকের বক্তব্য

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Oct 2026, 06:06 PM

Updated : 03 Oct 2026, 06:31 PM

‘কানাডায় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরকুলের কী পেলেন গোয়েন্দারা?’ শিরোনামে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বৃহস্পতিবার রাতে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, শেখ নূর ইসলামের তরফে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’।

শনিবার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবারকে সম্পৃক্ত করে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফু-ওয়াং বোলিং এর হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের সই করা প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, “শেখ নুর ইসলাম গত ৪৬ বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন এবং তিনি কানাডার বৈধ নাগরিক।

“তার দুই কন্যা দিশা ইসলাম ও বর্ষা ইসলাম জন্মগতভাবে কানাডার নাগরিক।”

ফু-ওয়াং বলছে, “কানাডায় তার নিজস্ব বৈধ ব্যবসা রয়েছে এবং সেখানকার বৈধ ব্যবসায়িক আয় থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশে রেমিটেন্স এনে তিনি এ দেশে রেমিটেন্সভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করছেন।”

প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে, “শেখ নূর ইসলাম বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের ঋণ বা লোন গ্রহণ করেননি।

“তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা টাকা পাচারের অভিযোগ উত্থাপন সম্পূর্ণ অবান্তর, ভিত্তিহীন, যুক্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

শেখ নূর ইসলামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ওয়্যারহাউজ সম্পর্কিত বিষয়ে ফু-ওয়াংয়ের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, “বাংলাদেশে ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ছাড়া শেখ নূর ইসলামের অন্য কোনো মদের বার, ওয়্যারহাউজ কিংবা ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড হাউজ নেই।

“এর বাইরে বাংলাদেশে তার কেবল বৈধ রেস্টুরেন্ট ও অ্যাগ্রো ব্যবসা রয়েছে।”

টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউজে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করার ঘট্না তুলে ধরে ফু-ওয়াংয়ের স্পষ্টীকরণপত্রে দাবি করা করা হয়েছে, এ ওয়্যারহাউজটি শেখ নূর ইসলামের নয়।

এতে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি ‘টসবন্ট’ নামক একটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিষ্ঠানকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

“উক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ বা দূরতম সম্পর্কও নেই।”

ফু-ওয়াং বলছে, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নুর ইসলামের কন্যা দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেননি।”

তারা বলছে, “উক্ত বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সকল প্রকার সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।”

প্রতিবেদকের বক্তব্য

জাতীয় রাজস্ব রোর্ড-এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদলিপিতে অর্থ পাচারের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনের কোথাও এমন শব্দ ব্যবহার বা এধরনের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনের কোথাও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নূর ইসলামের ঋণ নেওয়ার তথ্যও নেই।

শেখ নূর ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব ও অন্তত চারটি কোম্পানি থাকার তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথিও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে রয়েছে।

তবে কর নথিতে তাদের বিদেশে নাগরিকত্ব থাকা তথ্য যে নেই সে বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া নূর ইসলামের প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিটেন্স আনার তথ্যও রয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে।

তবে আয়কর আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি করদাতাদের বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য রিটার্নে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। দেশে মোট সম্পদের পরিমাণ কম হলে যদি কারও বিদেশে কোনো সম্পদ থাকে, তবে তা রিটার্নে তুলে ধরতে হয়।

এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বিদেশের সম্পদ রিটার্নে গোপন করলে সম্পত্তির ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ জরিমানার বিধান রয়েছে। বকেয়া জরিমানা আদায়ে কর কর্তৃপক্ষ দেশে বা বিদেশে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক, বাজেয়াপ্ত বা বিক্রি করতে পারে।

কানাডা থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) টস বন্ডকে নুর ইসলামের মালিনাধীন ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউজ বলে দাবি করছে। এটি প্রতিবেদকের মনগড়া তথ্য নয়।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে যৌথ অভিযান চালানো হয় এ প্রতিষ্ঠানে। সেখানে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ‘অননুমোদিত’ দুই গুদামে মজুদ রাখার দুটি বৈধসহ চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

এ অভিযানের পর এর মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলোকে বলেন, ওয়্যারহাউসটি নুর ইসলামের। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রাতে অভিযানটি চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে মেয়ে দিশা ইসলামের সম্পর্ক কেমন তা তুলে ধরা হয়নি। সেখানে সালমান মুক্তাদির যে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামকে বিয়ে করেছেন, কেবল সেই তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে।