সমাবেশ করতে পারেনি উদীচী, গান-কবিতায় প্রতিবাদ
উদীচী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে’ সমাবেশটি করতে পারেনি তারা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার সময় হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে ডাকা সমাবেশ করতে পারেনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।
সমাবেশ করতে না পেরে প্রেস ক্লাবের বিপরীতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদী গান-কবিতা পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
উদীচী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে’ সমাবেশটি করতে পারেনি তারা।
এ বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোমবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংস্কৃতিক সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন উদীচীর নেতাকর্মীরা। এজন্য শব্দযন্ত্রের গাড়িও সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু তাদেরকে প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কজুড়েই অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
উদীচীর কর্মীসহ সাধারণ মানুষকেই ওই এলাকায় যেতে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সমাবেশ স্থগিত করে উদীচী।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীতে ফুটপাতে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রেস ক্লাবের বিপরীত দিকের ফুটপাতে একটি 'ফুডভ্যানে' দাঁড়িয়ে কাগজ-কলমে স্লোগান লিখতে দেখা যায় উদীচীর কর্মী রহমান মফিজকে। সাদা কাগজে তিনি লেখেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুটপাতে অর্ধবৃত্ত হয়ে দাঁড়িয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা একে একে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করতে থাকেন।
‘সব মনে রাখা হবে’ শিরোনামে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন দীপন সুমন ও কামরুজ্জামান ভূঁইয়া।
প্রতিবাদী গান-কবিতার এ আসরে উদীচীর সহ-সভাপতি জামশেদ আনোয়া তপন বলেন, “এই দেশ স্বৈরতন্ত্রের নয়, এই দেশ কোটি শ্রমজীবী মানুষের। আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়ে আমাদের সাহস যুগিয়েছে। আমরা পিছু হটব না।”
অবিলম্বে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, ছাত্র হত্যার বিচারের দাবিও জানান তিনি।
জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, “ছাত্ররা যেভাবে রাস্তায় নেমেছে, তাতে আমরা আশাবাদি। দুঃশাসন দূর হবে।”
গান-কবিতার ফাঁকে ফাঁকে চলে স্লোগানও।
