অপ্রীতিতে বুদ্ধদেব: হৃতস্বজন প্রথম পার্থ
ভবতোষ দত্ত প্রথমশ্রুত কিশোরটির কথা জেনেই ছিলেন এই বলে যে ও একটি প্রডিজি। সেই কিশোর প্রমাণও করেছিলেন তিনি আসলেই তাই। অল্প বয়সেই তাঁর লেখা আর পড়ার বিস্তার ছিল চমকে দেয়ার মতো। পরিণতকালে তা এমনই বিস্তৃত হয়েছিল যে তার আর মাপজোখ হয় না। এমন কীর্তিমানরা সাধারণত চারপাশের মানুষের মধ্যে সমীহ জাগান। বুদ্ধদেবের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল, কিন্তু অপ্রীতিও বড় কম জোটেনি তাঁর জীবনে, সেই লেখক জীবনের শুরু থেকেই। প্রীতি আর মুগ্ধতায় যেমন স্নাত হয়েছেন তিনি, অপ্রীতিতেও ছিল তাঁর নিয়ত বসবাস। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
মোটা দাগে তিনটি বিষয় বুদ্ধদেবের লেখক জীবনে এনেছে অপ্রীতি: (১) লেখক জীবনের একেবারে শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ (২) উত্তর তিরিশের কবিদের রবি প্রভার বাইরে দাঁড়িয়ে কবিতার জন্য একটা নতুন স্থান অন্বেষণের চেষ্টায় কথিত রবীন্দ্র-বিরোধিতার বিতর্ক এবং (৩) তাঁর বিশ্বাসের জন্য প্রতিকূল এক সময়ে সাহিত্য-রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের একেবারে কেন্দ্রে তাঁর অবস্থান। এই শেষোক্ত বিষয়টিই এখানে আলোচ্য।
যে সময়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত, তিরিশের শেষ এবং চল্লিশের দশকের শুরু, পৃথিবীর তখন টালমাটাল অবস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উপনিবেশিত ভারতের দরজায় কড়া নাড়ছে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত রাজনীতি-সচেতন বাঙালি অগ্নিযুগ পেরিয়ে এসেছে। এখন উপনিবেশের শিকল ভাঙাই তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা নয়, উপনিবেশ-উত্তর সমাজ এবং রাষ্ট্রের রূপরেখা এবং দৃষ্টান্তও সে দেখেছে, বিপ্লবী রাজনীতির একটি ধারা প্রবলতর হচ্ছে। ঠিক সেই সময় কোলকাতা-কেন্দ্রিক বাঙালি সারস্বত সমাজ, বিশেষত লেখক সমাজকে এক অপরিহার্য অন্তর্বীক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হতো—এই রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা কী? হলোও তাই। এটাও বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগের এক দশকের বেশি সময় ধরে উত্তর-রবীন্দ্রসাহিত্যের দিগৈষণাতে, যাকে রবীন্দ্রনাথ নিজে রঙ্গ করে বলতেন 'ধুত্তোর-রবীন্দ্র' (দীপেশ চক্রবর্তী, মনোরথের ঠিকানা), প্রবল বিতর্কের মধ্যেও, আন্দোলনের একটি ধারা বাহিত হয়ে হয়ে আসছিল 'কল্লোল' (প্রথম প্রকাশ ১৯২৫), 'কালিকলম' (প্রথম প্রকাশ ১৯২৬), 'প্রগতি' (প্রথম প্রকাশ ১৯২৭), 'পরিচয়' (প্রথম প্রকাশ ১৯৩১), 'কবিতা' (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫)—এসব সাহিত্য পত্রিকার হাত ধরে। 'পরিচয়' ছাড়া সবক'টি প্রকাশনার সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন বুদ্ধদেব। 'প্রগতি' আর 'কবিতা'কে আশ্রয় করে যে কর্মযজ্ঞ, তিনিই তাতে অন্যতম পুরোহিত। সাহিত্য-আন্দোলনের প্রধানতম সংগঠক। তাই সাহিত্য-রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে এই বিতর্কের কেন্দ্রে এসে তিনি হাজির হবেন বা তাঁকে হাজির করা হবে সেটাই স্বাভাবিক।
আমরা লক্ষ করি, বুদ্ধদেব শুরুতে বেশ কিছু প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনে শুরুতে তাঁর সরব উপস্থিতি। সভাসমিতিতে তিনি অন্যতম বক্তা, বিবৃতিতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী। 'কবিতা'র জন্য কবিতা নির্বাচনে তিনি রাজনীতি-আশ্রিত কবিতার প্রতি শুধু উদারই নন, এর ভিন্নস্বরের শক্তিতে মুগ্ধ। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথাই ধরা যাক। তাঁর প্রথম কবিতার বই 'পদাতিক' বেরিয়েই ছিল কবিতাভবন থেকে। আমরা তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনি বুদ্ধদেবের কন্ঠে। বুদ্ধদেব বলছেন:
"ঈশ্বর-অবিশ্বাসী পাঠকের পক্ষে যদি রবীন্দ্রনাথের কবিতা উপভোগের কোনো বাধা না থাকে, তা'হলে সাম্যবাদে সন্দিহান পাঠকের পক্ষেও 'পদাতিক' উপভোগ্য হতে পারে না তা নয়। …
এত অল্প বয়সে যে নিজের একটি বিশিষ্ট রীতি তিনি নির্মাণ করতে পেরেছেন, এতেই তাঁর প্রতিভায় পরিচয়।"
বুদ্ধদেব এই প্রশস্তি লিখছেন ডিসেম্বর-জানুয়ারি, ১৯৪১-৪২ এ। সুভাষের কবিতায় এতখানিই মুগ্ধ ছিলেন যে 'পদাতিক' বের হবার পর তার এক কপি রবীন্দ্রনাথকেও পাঠিয়েছিলেন, সাথে শংসাপত্র, "আমি নিজে সুভাষের কবিতার বিশেষ অনুরাগী, এত অল্প বয়সে এতখানি শক্তির প্রকাশ আমার তো বিস্ময়কর মনে হয়।" সেই সুভাষ ১৯৪২ এর পর আর 'কবিতা'য় লেখেন নি, স্পষ্টতই মতপার্থক্যের কারণে, সে বিষয়ে পরে আসছি।
তারও বছর খানেক আগে বেরিয়েছে 'আধুনিক বাংলা কবিতা'র প্রথম সংস্করণ। কবিতাভবনের উদ্যোগে। যদিও এর যৌথ সম্পাদক আবু সয়ীদ আইয়ুব এবং হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, এর মূল উদ্যোক্তা বুদ্ধদেব বসু। কবিতা নির্বাচনে যে সমবায়ী ব্যবস্থা,আবু সয়ীদ আইয়ুবের লেখা চিঠিগুলো থেকে স্পষ্ট, তাতেও একটি অন্যতম স্বর বুদ্ধদেবের। এমনকি সম্পাদক নির্বাচনেও। আবু সয়ীদ আইয়ুব লিখেছেন, "সাম্যবাদী সাহিত্য সম্বন্ধে হীরেনবাবুর সঙ্গে আমার (আপনার) ঘোরতর মতবিরোধ আছে একথা জেনেই তো আপনি আমাদের দুজনকে সম্পাদকপদে বরণ করেছিলেন।" সব ছাপিয়ে এই সংকলনের চমৎকারিত্ব হলো সাম্যবাদী রাজনীতি-আশ্রয়ী এবং তথাকথিত 'শুদ্ধস্বর' এর কবিতার সহাবস্থান, যা স্পষ্টতই নিশ্চিত করেছিলেন বুদ্ধদেব। কিন্তু কতখানি শান্তিপূর্ণ ছিল সেই সহাবস্থান তা নিয়ে প্রশ্ন চলতেই পারে। কারণ আমরা দেখি প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে এই সংকলনে ছাপা হয়েছে দু'টি সম্পাদকীয়, অসাধারণ, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বরের। টানাপড়েন যে ছিল– কী কবিতা নির্বাচনে, কী কাব্যাদর্শবীক্ষণের দ্বিবিধ দৃষ্টিভঙ্গিতে– সে তো দেখাই যায়। তবু সব ছাপিয়ে যেটি বেশি দৃশ্যমান, তাহলো এই সহাবস্থানে অনাপত্তি, অন্তত ১৯৪০ এ।
ছবি: বাদিক থেকে সমর সেন, বুদ্ধদেব বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রতিভা বসু, কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং সামনে মোড়ায় বসা মিনাক্ষী দত্ত
এসব দেখে কি একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে সাম্যবাদী রাজনীতিতে বুদ্ধদেব ততখানি বীতরাগ নন, অন্তত শুরুতে? আরেকটু হয়তো পিছিয়েও দেখা যায়। ভারতবর্ষে সাম্যবাদী রাজনীতির পূর্ণ বিকাশের সময়টিতে আমরা বুদ্ধদেবকে যুক্ত হতে দেখি না। কিন্তু তার প্রাথমিক কয়েকটি সোপানে সবার সাথে পা ফেলে তিনিও এগিয়েছিলেন সেপথেই। ঢাকায় সোমেন চন্দ হত্যার পর যে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে তিনি তাতে যুক্ত হয়েছিলেন, অশোক মিত্রের ভাষায় তখন লিখেছিলেন "ক্রোধ- ও আবেগ-মিশ্রিত তাঁর দীর্ঘ কবিতা" (আপিলা-চাপিলা, ২০০৩, পৃ ৭১) –'প্রতিবাদ'। ডিসেম্বর ১৯৩৮ এ কোলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রগতি লেখক সংঘের দ্বিতীয় সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য বুদ্ধদেব (সমীর সেনগুপ্ত, ২০১৯ পৃ ১৮৯), প্রবন্ধ লিখেছেন "সভ্যতা ও ফ্যাসিজম," অভিনয় করেছেন "রথের রশি" নাটকে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ধরিয়ে দেয়া 'বেআইনি কাগজপত্র' পড়ছেন, চাঁদা দিচ্ছেন, বিবৃতিতে সই দিচ্ছেন ('শাপভ্রষ্ট দেবশিশু,' কলকাতা পত্রিকা, বুদ্ধদেব বসু সংখ্যা, প্রতিভাস, ২০০২, পৃ ৩১)। 'কবিতা'য় ছাপছেন বিষ্ণু দে, সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায়দের কবিতা। শুধু ছাপছেন তাই নয়, সেসব কবি এবং কবিতার উচ্চকণ্ঠ প্রশংসাও করছেন। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে নিজে ডেকে দায়িত্ব দিচ্ছেন "আধুনিক বাংলা কবিতা" সম্পাদনার। এই কর্মকাণ্ডে প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে তাঁর মর্মগত বিরোধ তখন চোখে পড়ে না। শঙ্খ ঘোষ বলেছেন বুদ্ধদেবের এই তৎকালীন আচরণ "সমকাল-প্রভাবিত" ( লেখা যখন হয়না, পৃ ১২৫)। সত্যিই কি তাই? এতে কি অন্তত একটি সম্ভাবনা তৈরী হয় নি বুদ্ধদেব রাজনৈতিক চিন্তায় কাদের মিত্র হতে পারতেন? তাঁর সাহিত্য-কেন্দ্রিকতাকে অস্পর্শ রেখে হলেও?
বিরোধটা তাহলে কোথায় এবং কখন শুরু হলো? কেন তিনি তাঁর সমকালেই সমালোচনার তীব্র শরে এমন বিদ্ধ তাঁর 'কবিতা'র স্বজনদের কাছ থেকে? একসময় প্রায়-বন্ধুশূন্যও, অন্তর্বীক্ষণে দীর্ণ তথাপি নিজের অবস্থানে নিষ্কম্প, অটল। বুদ্ধদেবের নিজের ভাষায়, "এই অবস্থায় , উভয় পক্ষের সদিচ্ছা ও চেষ্টা সত্ত্বেও, বন্ধুতার ফাটল ধরলো অনিবার্যভাবে, ঘটলো একের-পর-এক বিচ্ছেদ—মন্থর ও মৃদু, আর কখনো বা রূঢ়ভাবে, অকস্মাৎ। পথ ভিন্ন হয়ে গেল।" লিখলেন, "অনেক বিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খল সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে, উদ্যমের অনেক অপব্যয় এবং আবেগের অনেক ব্যর্থতা পেরিয়ে, ধীরে-ধীরে আমার অনুভূতি হ'লো যে সব গতি ও প্রগতি ও পতন ও বিতর্কের পরে অবশেষে কোন এক গভীর রাত্রে নিজের মধ্যে নিবিষ্টতা ভাল"(আমাদের কবিতাভবন, ১ম সংস্করণ, পৃ ৩০)। অনেকের সাথে ব্যক্তিগত ভালবাসার সম্পর্কটি রয়ে গেল অলক্ষে, উত্তরকালের প্রায় সবার স্মৃতিচারণে তার নির্ভুল প্রমাণ, কিন্তু পথ ভিন্নই থেকে গেল। কবিতাভবনের ক্ষীণাঙ্গ পরিসরে বন্ধুজনের উচ্চকণ্ঠ প্রাণময় আড্ডা ক্রমশ স্তিমিত হয়ে গেল। সেই আড্ডা যা সম্পর্কে অশোক মিত্র বলেছিলেন, " কবিতাভবনের তিরিশের দশকের শেষার্ধের আড্ডা… বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের পূর্ণিমায় পৌঁছবার প্রক্রিয়ার প্রতিভাস।" (সমীর সেনগুপ্ত, পৃ ২৪০)
একটু বিস্ময় লাগে এইজন্য যে মূল বিরোধটি শুরুতে রাজনৈতিক মতাদর্শগত নয় মোটেও, কেবল সাহিত্যের শিল্পরূপকে তার স্বাতন্ত্র্যটুকু দেয়ার জন্য, রাজনীতির উচ্চকণ্ঠে তিনি অনাগ্রহী। গভীরতর অন্তর্গত শৈল্পিক বোধের আধার হিসেবেই সাহিত্যকে দেখতে চেয়েছেন বুদ্ধদেব। তাঁর এই বিশ্বাসের একটি ক্রমনির্মীয়মাণ ধারা,যা আরও পরে বেশি দৃশ্যমান, আমরা দেখতে পাই ত্রিশের দশক থেকেই। এমনকি প্রগতি লেখক সম্মেলনের বক্তৃতাতেও সেই ১৯৩৮ সালেই তিনি একথাও বলেছিলেন, "প্রয়োজন হলে আসুন আমরা সমস্ত লেখকরা মিলে প্রোপাগান্ডা বা প্রচারকার্যে নিজেদের নিয়োজিত করি। কিন্তু একথা যেন না বলি যে এইটাই হচ্ছে সাহিত্যের সর্বোচ্চ দিক, বা আদৌ এটা সাহিত্য। কেননা সমস্ত শিল্পকর্মই গভীর অর্থে প্রচারকার্য, সমস্ত প্রচারকার্যই কিন্তু শিল্পকর্ম বা আর্ট নয়।" 'কবিতা'র যে সংখ্যায় (ডিসেম্বর-জানুয়ারি, ১৯৪১-৪২) প্রকাশিত হলো অকুণ্ঠ সুভাষ-স্তুতি, সেখানেও তিনি বলেছেন, "যদি তিনি বিশ্বাস করেন যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁর কর্তব্য, তিনি তা করবেন মানুষ ও কর্মী হিশেবেই, কবি হিশেবে নয়। কিন্তু যখন ও যতক্ষণ তিনি কবি, কবিতার উৎকর্ষই হবে তাঁর সাধনা। হয় তাঁকে কর্মী হ'তে হবে, নয়তো কবি।"
এই বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটিও স্পষ্ট, যে রাজনীতির প্রতি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পক্ষপাত, তার সাথে বুদ্ধদেবের তখন কোনো বিরোধ নেই। সুভাষ চাইলে সেই রাজনীতির কর্মীই হবেন। তাঁর আশংকা রাজনীতির উচ্চনাদ যেন কবিতার শিল্পিত স্বরকে ডুবিয়ে না দেয়। দুটি ভূমিকাকে তিনি আলাদা করে দেখা এবং আলাদা করে রাখার পক্ষপাতী। পরবর্তী দেড় দশক ধরে মার্ক্সবাদী সাহিত্য-ভাবনার যে বিবর্তন তিনি দেখেছেন তখনকার ভারতবর্ষে, তা' তাঁর বিশ্বাসকে আরও সংহত করেছে। চল্লিশের দশকে রণদীভে নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি জানালো রাজনৈতিক দর্শনই হবে সংস্কৃতি বিকাশের পথ নির্ণায়ক, স্বর-বৈভিন্নের সুযোগ নেই সেই বেঁধে দেয়া ছকে। অনেকেই সেপথে গেলেন, কিন্তু বুদ্ধদেব যান নি। তাঁর মনে হয়েছে এ যেন সাহিত্যের অমিত সম্ভাবনাকে এক অলংঘ্য নিগড়ে বেঁধে দেয়া, যেন বৈচিত্র্যের শ্বাসরোধ।
এখনকার বিচারে বলা যায়, এই যে অগ্রহণ, সেও এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সাহিত্যকে রাজনীতির সর্বতোভাবে অনুগামী না হতে দেয়া, তার ক্ষমতায়নের চেষ্টাটি জারি রাখা। এখানে বলে রাখা ভাল, শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে মার্ক্সবাদী ধারণার পরবর্তী বিকাশ এই বিতর্কের প্রকৃতি বদলে দিয়েছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত গ্রামসি অনাবিষ্কৃত, পশ্চিম ইউরোপীয় মার্ক্সবাদীদের উপরকাঠামো বিষয়ক চিন্তাগুলো এসেছে খানিকটা পরে। তারও পরে এসেছে উত্তরাধুনিকতাবাদ যেখানে প্রতিটি আপাত-তুচ্ছ উচ্চারণের বিচার হয় জ্ঞান-ক্ষমতা-সম্পর্কের নিরিখে। আজকের দিনে হলে বুদ্ধদেবের এই অবস্থানের একটা ভিন্ন বিচার হতো। কিন্তু তা' হয় নি। রাজনৈতিক বিচার তখন একেবারেই সাদা-কালো। এমনকি তাঁর অবস্থানের সাহিত্য-কেন্দ্রিকতাকেও আমলে না নিয়ে প্রায় জোর করে তাঁকে উপস্থাপন করা হয়েছে এক কল্পিত রাজনীতি-বিমুখতার আলোকে। এই বিচার গ্রাহ্য হলে তার একটি অমোঘ পরিণাম আছে। অনিবার্যভাবেই বিশ্লেষণের সেই ধারাতে তাঁকে কেউ কেউ অবশেষে উপস্থিত করেছেন প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতিপক্ষ হিশেবে। ঠেলে ধাক্কিয়ে তাঁকে যে প্রতিপক্ষতায় হাজির করা হলো, হয়তো তার আরও একটি পরিণাম, অবশেষে তিনি নিজেও তাতে খানিকটা সমর্পিত হলেন, সাময়িক হলেও। আমরা দেখি, ১৯৫১ সালের গোড়ায় তিনি যুক্ত হয়েছেন "কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডম"-এ। জনশ্রুতি এই যে পৃথিবীময় এই প্লাটফর্মটি দাঁড় করানোর জন্য টাকা ঢেলেছে সি আই এ, প্রগতিবাদী শিল্প-সংস্কৃতির ধারার প্রতিপক্ষ হিসেবে—শীতল-যুদ্ধের ভিন্নতর ফ্রন্ট হিসেবে। এ কি তাঁর অকস্মাৎ স্খলন, নাকি তাঁর বিশ্বাসের নিরুপায় পরিণতি? এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। পাশাপাশি এ-ও বিবেচ্য—সর্বগ্রাসী বিরূপতা একজন তন্নিষ্ঠ মানুষকেও কোথায় পৌঁছে দিতে পারে। সমালোচনার তীব্র শরে তখন জর্জরিত বুদ্ধদেব। সেই আক্রমণ করেছেন তাঁর এককালের নিকটজনেরাই।
একেবারে শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, " আমি তখন লেখা ছেড়ে আস্তে আস্তে পার্টির কাজে ডুবছি। … আমার নতুন পৃথিবী গড়ার সংকল্প তাঁর মধ্যে সংক্রমিত করতে পেরেছি মনে করে খুশি হয়ে ফিরে আসি। কিছুদিন পর গিয়ে দেখি আমার সব ভস্মে ঘি ঢালা হয়েছে। … উলটে আমাকেই কিনা বলেন, পার্টির খপ্পরে পড়ে লেখা নষ্ট করছি। সেই রাগে দীর্ঘদিন তাঁর মুখদর্শন করিনি ('শাপভ্রষ্ট দেবশিশু,' কলকাতা পত্রিকা, বুদ্ধদেব বসু সংখ্যা, প্রতিভাস, ২০০২,পৃ ৩১)।
আশংকাটি তো মিথ্যে ছিল না। একই লেখাতে সুভাষ স্বীকার করেছেন, "কবিতা তখন আমার কাছে দূরের স্মৃতি।" রাজনীতি তাঁকে কবিতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছিল—এ তাঁর নিজেরই স্বীকারোক্তি। কবিতার এই উচ্চস্বরে কাব্যধর্ম নষ্ট হয় আর সে কারণেই "লেখা নষ্ট" করার জন্য সুভাষকে বুদ্ধদেবের তিরস্কার—এই বিচার শুধু বুদ্ধদেবের নয়। 'আধুনিক বাংলা কবিতা' সংকলনটির অন্যতম সম্পাদক মার্ক্সবাদী হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সেই বিখ্যাত সম্পাদকীয়তে লিখেছিলেন, "সমর সেন বা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখার নানাগুণ সত্ত্বেও দেখা যায় যে অনেক সময় তাঁদের কাব্যপ্রসঙ্গ ও প্রকরণের সঙ্গে বিপ্লবী সিদ্ধান্তের সঙ্গতি নেই, সে-সিদ্ধান্তকে যেন ক্রোড়পত্র করে জুড়ে দেয়া হয়েছে" (হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, নির্বাচিত প্রবন্ধ, প্রথম খণ্ড, পৃ ১৬০-৬১)।
বুদ্ধদেব 'কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডম' এর বোম্বাই সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর সুভাষ মুখোপাধ্যায় 'পরিচয়' পত্রিকায় লিখলেন এক খোলা চিঠি, তীব্রতম ভাষায়, মতাদর্শের চকমকে পাথরে শানানো। সে ১৯৫১তে। কিন্তু কী আশ্চর্য! দেড় বছরের মাথায় সেই সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাতেই পরিবর্তন এলো। যে বিরূপতা তিনি উগড়ে দিয়েছিলেন বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে, সেই বিরূপতা শতগুণে বেড়ে তাঁর দিকেই ধেয়ে এলো। তাঁর সুরের এই পরিবর্তন দেখা যায় শান্তিনিকেতনে 'সাহিত্যিকা'র সভায় পড়া এক প্রবন্ধে। তিনি বলেছিলেন, "শুকনো মুড়ি চিবিয়ে জল খেয়ে যারা রাখালি করে, তারা বাঁশের বাঁশিও বাজায়। এই হল জীবন। একঘেয়ে সুর কার ভাল লাগে? বিচিত্র সুরের ঐকতান চাই। তাহলেই তো কবিতার আসর জমে উঠবে" (শঙ্খ ঘোষ, লেখা যখন হয়না, পৃ ১৩০)। আহা! বিচিত্র সুর, বিচিত্র সুরের ঐকতান—এ যেন বুদ্ধদেবের প্রাণের কথা! বলছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। সেই সুভাষ, যিনি বিষাক্ত তিরে জর্জরিত করেছিলেন বুদ্ধদেবকে, বেশি নয়, মাত্র দেড় বছর আগে, 'পরিচয়' এর খোলা চিঠিতে।
আক্রমণকারীদের মধ্যে আরও একজন ছিলেন। অন্যতম। অশোক মিত্র। বুদ্ধদেবের অনুসারী বলে একসময়ে স্বঘোষিত 'বৌদ্ধ'। সেই আক্রমণে তিনি বলেছিলেন, "বুদ্ধদেব ক্রমশ মার্কিন মুগ্ধতার মৌতাতে স্থবির" (আপিলা-চাপিলা, ২০০৩, পৃ ১০৪)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও বলেছিলেন, স্পষ্টতই শ্লেষ মিশিয়ে, "বুদ্ধদেব আমেরিকায় চলে গেলেন। ডলার দেখলেন চকচকে। "খোকনমোহন চৌধুরী ডলার পেলেন ছয় কুড়ি।" পুরোপুরি মনের কথা লিখেছিলেন" (অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, সম্পাদনা প্রণব বিশ্বাস)। অবিশ্বাস্য লাগে এক কালের 'বৌদ্ধ' অশোক মিত্র এমন নিষ্ঠুরভাবে বলছেন বুদ্ধদেব সম্পর্কে, যে বুদ্ধদেবের প্রতি তাঁর ভালবাসা কোনোদিন মরে যায় নি। এবং সেই অশোক মিত্র যিনি ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে বড় বড় চাকরি করেছেন, ওয়াশিংটনে ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউটে চাকরি করেছেন যেখানে তিনি পুঁজিবাদী অর্থনীতি নিয়ে জ্ঞান দান করেছেন তৃতীয় বিশ্বের নেতাদের। সেটি দোষের হয় নি। এ সম্পর্কে তাঁর মত, "তা নিয়ে আমার কোন বিবেকদংশন নেই"(অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, পৃ ২৯১)। কিন্তু যখন তাঁর মনে হয় বুদ্ধদেব বসুর জীবন 'ভীষণরকম' বদলে গেছে, তখন সেই 'ভয়ংকর ঘটনাপাতে' তাঁর কণ্ঠ-পর্যন্ত-উঠে আসে শোকাকুল কান্না (দূরে এসে ভাল থাকি, কলকাতা, বুদ্ধদেব সংখ্যা, পৃ ৩৮)। আশ্চর্য বটে!
স্পষ্টতই, বুদ্ধদেব খুব কষ্ট পেয়েছিলেন অশোক মিত্রের আচরণে। একটি গল্পও লিখেছিলেন, 'অনুদ্ধারণীয়,' রেফারেন্স থেকে স্পষ্ট–গল্পের বৃদ্ধ বিনায়ক দত্ত বুদ্ধদেব নিজে আর যুবক, যে তাঁকে শেষ অব্দি হত্যা করে, অমিত বিশ্বাস, সেটি অশোক মিত্র।
সন্দেহ নেই, মতাদর্শিক রাজনীতি থেকে সাহিত্যকে বিচ্ছিন্ন করার আকাঙ্ক্ষা ক্রমে ক্রমে আরও দৃঢ় হয়েছে বুদ্ধদেবের। এর একটি দৃষ্টান্ত, ১৯৪০ এ সংকলিত 'আধুনিক বাংলা কবিতা' যখন তিনি নতুন সংস্করণ করেন ১৯৫৫ তে, তখন অনেক রাজনৈতিক কবিতা তা' থেকে নির্বাসিত হয়, সব নয় যদিও। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এবং আবু সয়ীদ আইয়ুবের দুটি অসাধারণ সম্পাদকীয়ও তিনি বাদ দিয়ে নিজে লিখলেন এক নতুন সম্পাদকীয়। আবু সয়ীদ আইয়ুবের বক্তব্যের সাথে তাঁর বিরোধ ছিল না। সম্ভবত হীরেন্দ্রনাথের সম্পাদকীয় বাদ দেবেন বলে দুটোই বাদ দিলেন তিনি। মতাদর্শের সাহিত্য ও সাহিত্যের স্বকীয়ত্ব বিষয়ে সহাবস্থানের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন ১৯৪০ এ, ১৯৫৫তে তিনি আর তা'তে আগ্রহী নন। ততদিনে অনেক কিছুই বদলাতে শুরু করেছে, রাজনীতি-আশ্রয়ী সাহিত্য ততদিনে অনেক অনুশাসনের শিকার, সমর সেনের কবিতা সমালোচিত তাঁর কথিত মৃত্তিকাবিচ্ছিন্নতার জন্য (যেন 'ছাদের টবে মৌসুমী ফুল'), সুভাষ খুঁজছেন 'বিচিত্র সুরের ঐকতান।' সেই সুভাষ যিনি, বুদ্ধদেবের ভাষায়, একমাত্র বাঙালি কবি যিনি প্রেমের কবিতা দিয়ে কবিজীবন শুরু করেন নি, তিনিও অনেক পরে 'সখা হে' তে বলছেন, "সরিয়ে ফেলে পাঞ্চজন্য, ওষ্ঠে নাও বাঁশি।" কিন্তু বুদ্ধদেবের পরিবর্তনটি মৌলিক নয়, তাঁর পূর্বতন সাহিত্যবীক্ষণের দৃষ্টিভঙ্গিরই খানিক সম্প্রসারণ। এই বিশ্বাস ভালো কি মন্দ, সঠিক কি ভুল, এ'বিচার অমীমাংসিত, অমীমাংস্য।
বুদ্ধদেবের লেখক জীবনের রেখচিত্রে হয়তো কিছু দূরবর্তী বিন্দু দেখা যায়, যেগুলো সেই রেখায় ঠিক সমাপতিত নয়—যেমন ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া, কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডম-এ বিভ্রান্তিময় ক্ষণিক সংযুক্তি—কিন্তু সেগুলো দিয়ে বুদ্ধদেবের বিচার অবিচারেরই নামান্তর। সেই রেখচিত্রের মূল সরলরেখাটি একটি চিত্রই আমাদের সামনে হাজির করে, তাহলো সাহিত্যের স্বাধীনতায় তাঁর অবিচল আস্থা। সেই আস্থা থেকেই তাঁর কমিটমেন্ট, যেখান থেকে কখনও সরেন নি। আদ্যোপান্ত তিনি কবি ও লেখক, বাংলা সাহিত্যের তিনি একনিষ্ঠ সেবক, যিনি নিজে লিখেছেন দু'হাতে, লিখিয়েছেন, আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, বিশ্বের ভাণ্ডার থেকে কুঁড়িয়ে এনেছেন মণিমুক্তো আমাদের জন্যে। বাকি সব পরিচয় অন্যায় আরোপণ। সুভাষ মুখোপাধ্যায় চমৎকার বলেছেন, "সাহিত্য তাঁর লক্ষণের গণ্ডি। তার বাইরে তিনি সর্বদাই অপহরণযোগ্য…আপাদমস্তক বর্মাবৃত হয়ে তিনি লড়েন না; স্থির লক্ষ্যে তাঁর গায়ে তীর বেঁধানো সম্ভব। মনে এক এবং মুখে আর-এক নয়; বাইরে থেকে তাঁর ভেতর দেখা যায়" (শাপভ্রষ্ট দেবশিশু, পৃ ৩২)। বুদ্ধদেব কন্যা দময়ন্তীও লিখেছেন, বুদ্ধদেবের প্রতি 'চতুর্দিক থেকে উড়ে আসা বিষাক্ত তির' এর কথা (দময়ন্তী বসু সিং, হৃদমাঝারে রাখবো, অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, পৃ ৩৮)। আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যেন বুদ্ধদেবের লেখা কাব্যনাট্য 'প্রথম পার্থ'র কর্ণ। 'প্রথম পার্থ'তে কর্ণ বলছেন:
কেউ মিত্র নয় আমার,
কাউকে আমি শত্রু বলে ভাবি না—
আমি স্বাধীন, আমি নিঃসঙ্গ
প্রথম পার্থ কর্ণ স্বজন হলেও অন্য পৃথাপুত্রদের স্বাজন্য পান নি। যুদ্ধটি করে গেছেন স্বীয় সংকল্পে অটল থেকে। কর্ণের মতোই বুদ্ধদেব একসময়ে নিঃসঙ্গ, হৃতস্বজন, তবু তাঁর যুদ্ধটি করে গেছেন নিজ প্রতীতিতে প্রোথিত থেকে।
গ্রন্থপঞ্জি
অশোক মিত্র, আপিলা-চাপিলা, আনন্দ, ২০০৩,
অশোক মিত্র, 'দূরে এসে ভাল থাকি,' কলকাতা, বুদ্ধদেব সংখ্যা, প্রতিভাস, ২০০২
অশোক মিত্র, 'আধুনিক বাংলা কবিতা,' প্রণব বিশ্বাস সম্পাদিত অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, অনুষ্টুপ, ২০১৯
দময়ন্তী বসু সিং, বুদ্ধদেব বসুর অগ্রন্থিত গদ্য 'কবিতা' থেকে, বিকল্প ২০১১
দময়ন্তী বসু সিং, 'হৃদমাঝারে রাখবো,' প্রণব বিশ্বাস সম্পাদিত অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, অনুষ্টুপ, ২০১৯
দীপেশ চক্রবর্তী, মনোরথের ঠিকানা, অনুষ্টুপ, ২০১৮
বুদ্ধদেব বসু,আমাদের কবিতাভবন, ১ম সংস্করণ, বিকল্প ২০০১
বুদ্ধদেব বসু, আত্মজৈবনিক, বাতিঘর, ২০১৮
বুদ্ধদেব বসু, উপন্যাস সমগ্র-১, দে'জ পাবলিশিং, প্রথম সংস্করণ, ২০২০
বুদ্ধদেব বসুর শ্রেষ্ঠ গল্প, দে'জ পাবলিশিং, পঞ্চম সংস্করণ, ২০১৭
মীনাক্ষী দত্ত, স্মৃতিতে চিঠিতে বুদ্ধদেব বসু ও তাঁর সারস্বত গোষ্ঠী, প্রতিভাস, ২০১১
শঙ্খ ঘোষ, লেখা যখন হয় না, পত্রভারতী, ২০১৯
সমীর সেনগুপ্ত, অমল আমার সময়? , প্রথম প্রতিভাস সংস্করণ, ২০২০
সমীর সেনগুপ্ত, বুদ্ধদেব বসুর জীবন, প্রতিভাস, ২০১৯
সুভাষ মুখোপাধ্যায়, 'শাপভ্রষ্ট দেবশিশু,' কলকাতা, বুদ্ধদেব বসু সংখ্যা, প্রতিভাস, ২০০২
সৌরিন ভট্টাচার্য, 'একটি সাক্ষাৎকার,' প্রণব বিশ্বাস সম্পাদিত অশোক মিত্র: স্মৃতি ও কথা, অনুষ্টুপ, ২০১৯
হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, নির্বাচিত প্রবন্ধ, প্রথম খণ্ড, মিত্র ও ঘোষ, ১৯৯৮
