১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

চট্টগ্রামে শেষ ঘণ্টায় ভোটার উপস্থিতি ছিল কম

“সকালে যে চাপ ছিল সে তুলনায় বিকালে ভোটার সংখ্যা খুবই কম,” বলেন একজন প্রিসাইডিং অফিসার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Feb 2026, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:56 PM

চট্টগ্রামে নির্বাচনের দিন সকালে ও দুপুরে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা গেলেও বেলা ১টার পর থেকে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। বেলা আড়াইটার পর কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়।

বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে শেষ ঘণ্টায় নগরী ও জেলার চারটি আসনের কমপক্ষে আটটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটার উপস্থিতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সকাল সাড়ে ৭টা শুরু হয়ে বিকালে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

বেলা ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দেয় নির্বাচন কমিশন।

বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ৬ হাজার ৬২০টা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের হার তখনো তারা পাননি।

চট্টগ্রাম নগরীর চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় পুরো প্রাঙ্গণ খালি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন। 

নিচতলার পুরুষ বুথ-৩ এ গিয়ে দেখা যায়, ধানের শীষের ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর দুজন এজেন্ট আছেন। অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট ওই বুথে নেই। এই বুথের ৭৭৩ জন ভোটারের মধ্যে বেলা ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ৩৩২টি ভোট পড়েছে। 

সামনের কক্ষের পুরুষ বুথ-২ এ মোট ৬০৮ ভোটের মধ্যে ২০০টি ভোট পড়েছে। সেসময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নির্দেশে বুথটি গুটিয়ে দোতলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। 

প্রিসাইডিং অফিসার মো শাহ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই বুথে তেমন ভোটার আসছে না। তাই ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে দোতলায় নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ছয়টি বুথে ৩৩৭৫ জন ভোটারের মধ্যে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ১২০২ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৩৫ শতাংশের মতো।”

এরপর বেলা ৩টা ৪৩ মিনিট চট্টগ্রাম-৯ আসনের আন্দরকিল্লা মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রের সামনে ভোটারের কোনো সারি নেই। 

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের নয়টি বুথে মোট ৫১৯৬ জন ভোটার। আড়াইটার দিকে ১৫১২ জন ভোট দেন, অর্থাৎ ২৯ শতাংশ।” 

এই কেন্দ্রের ৬ নম্বর বুথটি পুরুষদের বুথ। সেখানে ভোটার ৫৩৯ জন। তখন পর্যন্ত ১৭৬ জন ভোট দিয়েছেন বলে ওই বুথের দায়িত্বে থাকা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বলেছেন। 

এরপর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনের ওমরগণি এমইএস কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। 

এখানেও দুয়েকজন ভোটার ভোট দিতে আসছিলেন। নয়টি বুথে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকারা অলস সময় কাটাচ্ছিলেন।

এই কলেজের নারী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক বলেন, কেন্দ্রের মোট ৯টি বুথে ভোটার ৪৫০৭ জন। বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১৬৮৫ জন, অর্থাৎ ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। 

“বেলা ১টা পর্যন্ত ভোটারের লাইন ছিল। তারপর কমতে শুরু করে। এবার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। অতীতে দুপুরের পর মহিলা ভোটার বাড়ত। এবার বেশিরভাগ ভোটার সকালেই ভোট দিয়ে চলে গেছেন। তবে সকালে যে চাপ ছিল সে তুলনায় বিকালে ভোটার সংখ্যা খুবই কম।” 

এখানকার ১ নম্বর বুথে ৫০০ ভোটের মধ্যে ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ২১৪ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বুথের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম। 

বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম-১০ আসনের নিউ ঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন কেন্দ্রের চিত্র ছিল অন্যরকম।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট বাকি তখন।

কেন্দ্রের ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইক হাতে প্রিসাইডিং অফিসার ওহিদুল ইসলাম ঘোষণা করছিলেন, “আর কেউ ভোট দেওয়ার বাকি থাকলে আসুন। ৫ মিনিট পর গেইট বন্ধ হয়ে যাবে।”

ওই কেন্দ্রের সাতটি বুথে মোট ৩৩৮৫ জন ভোটারের মধ্যে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার ওহিদুল ইসলাম। 

তবে নগরীর বাইরে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের সুচিয়া রামকৃষ্ণ স্কুলে শেষ পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। 

এই আসনের আরেক কেন্দ্র দক্ষিণ হাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ছিল ১৭৭০ জন। সেখানে শেষ পর্যন্ত ১২৮২ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার আবু তৈয়ব, যা মোট ভোটের প্রায় ৭২ শতাংশ। 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের পুইছড়ি সোলতানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৪৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

প্রিসাইডিং অফিসার আব্বাসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ২৫৪ জন। পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৩৪৩ জন, নারী ভোটার ১ হাজার ৯৯৮ জন। 

সকালে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেড়েছে।

ওই আসনের কালীপুর এজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত ২৮০০ ভোট পড়ার কথা জানান প্রিসাইডিং অফিসার প্রদীপ কুমার দত্ত। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪৯৪৭ জন। 

সে হিসেবে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পড়ে।