Published : 29 Nov 2014, 11:22 PM
এই স্মৃতিস্থাপনা তিন মাস আগে উদ্বোধন করা হলেও শনিবার সেটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
এ সময় আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দুই জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাদের দুর্ঘটনাটিসহ আরও কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ধ্বংসাবশেষ দিয়ে এই স্মৃতিস্থাপনাটি তৈরি হয়েছে।
“শিক্ষার্থী ও অন্যান্য দর্শনার্থীরা এখানে এসে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে সচেতন হবে, দুর্ঘটনা রোধ করতে সচেষ্ট হবে। নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠবে এটি।”
তিনি বলেন, “আমাদেরকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতেই হবে। সড়ক দুর্ঘটনা বিরোধী মনমানসিকতাও তৈরি করতে হবে।”
২০১১ সালের অগাস্টে মানিকগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের সিইও সাংবাদিক মিশুক মুনীর।
তিন বছর আগের ওই দুর্ঘটনায় তারা ছাড়াও নিহত হন মাইক্রোবাসের চালক মুস্তাফিজ, তারেক মাসুদের প্রোডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম ও কর্মী জামাল।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ছিলেন তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ও শিল্পী ঢালী আল-মামুনের স্ত্রী দিলারা বেগম জলি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের পাশের সড়কদ্বীপে ‘সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিস্থাপনা’টি তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর ছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে চিত্রশিল্পী ঢালী আল মামুনের পরিকল্পনাতেই তৈরি হয়।
দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে স্থাপিত এই স্মারকটির সব উপকরণই দুর্ঘটনায় পড়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ।
তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, “দুর্ঘটনা ধ্বংসাবশেষ দিয়ে শৈল্পিক কিছু করার কথা চিন্তা করছিলাম আমরা। সে অনুসারে নৈসর্গিক পরিবেশে স্মৃতিস্থাপণাটি নির্মিত হয়েছে। মানুষ সচেতন হলেই এই প্রচেষ্টা সফল হবে।
“শুধু তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর নয়, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়, তাদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে এই স্থাপনা। মানুষ এটা দেখে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটু ভাবুক, সচেতন হোক- এটা চাচ্ছি আমরা।”
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “বাংলাদেশের যানবাহন কত অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ তার জলজ্যান্ত উদাহরণ এই স্মৃতিস্থাপনা। এটা দেখে আমরা সচেতন হবো, যাতে আর কোনো প্রতিভাবান মানুষ এভাবে অকালে চলে না যায়। সড়ক ও নৌসহ সকল দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে ভাবনা জাগাবে এটি।”
‘নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলে এবং তাদের শাস্তি দিলে আমরা একপেশে বিচার করব।
“এর জন্য মালিক, বিআরটিএসহ নিয়ন্ত্রক সকল সংস্থার গাফিলতির বিচারও হতে হবে।”
স্মৃতিস্থাপনা উন্মোচনে এসে প্রিয়জনকে হারানোর কথা স্মরণ করে চোখের জলে ভেসেছেন মিশুক মুনীরের স্ত্রী বেগম মঞ্জুলী কাজী। এসময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাজেদা বানু ও এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা প্রমুখ।
এই স্থাপনাটি নির্মাণ করতে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, যারা ২০০১ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করে আসছে।