Published : 26 May 2013, 08:29 AM

তার আগেই সাক্ষীর তালিকা ও অন্যান্য কাগজপত্রও জমা দিতে বলেছেন বিচারক।
মীর কাসেমকে এদিন ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হলেও তাকে এজলাসে নেয়া হয়নি।
রোববার আদালতের আদেশের পরে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন সাংবাদিকদের বলেন, “মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুণ্ঠনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯৭১ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামে যতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো তার সবগুলোতে সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।”
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গত ১৬ মে এই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগের মধ্যে আটজনকে নির্যাতনের পর হত্যা, লাশ গুম এবং ৩৪ জনকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেমকে গত বছর ১৭ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মীর কাসেম জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রধান অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং রাবেতা আল ইসলামী নামে একটি এনজিও’র সাবেক আবাসিক প্রতিনিধি।
জামায়াত সমর্থক বলে পরিচিত দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনেরও চেয়ারম্যান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানেরই সংবাদপত্র দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং টেলিভিশন চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশন।
প্রসিকিউশন বলছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের মীর কাসেমকে একাত্তরে চট্টগ্রামের মানুষ চিনতো মিন্টু নামে। কলেজছাত্র থাকাকালে সেখানেই তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের দায়িত্ব নেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বে আলবদর সদস্য ও রাজাকাররা চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেল, আসাদগঞ্জের চামড়ার গুদাম ও পাঁচলাইশের সালমা মঞ্জিলে নির্যাতনকেন্দ্র গড়ে তোলে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নির্দেশনায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে, তার তালিকা তৈরিতেও মীর কাসেম ছিলেন।
১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসংঘ নাম বদলে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু করলে মীর কাসেম তার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।