Published : 23 May 2013, 03:43 PM
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘শাসন’ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে গুলশানের নর্দায় কলেজের ৩ নম্বর ক্যাম্পাসে ওই ‘নির্যাতনে’ আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর আগেও শাহবাগে গণজাগরণ কর্মসূচিতে যেতে চাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ‘শাসন’ করেছিলো।
দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির পর তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শারীরিক নির্যাতন করে।
ছেলেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লাঠিপেটায় কয়েক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনকে অ্যাপলো হাসপাতালে, দুজনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্যামব্রিয়ান স্কুলের ৬ নম্বর ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ মাহবুব হাসান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছে, বুধবার রাতে নর্দায় ৩ নম্বর ক্যাম্পাসে তাদের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
“খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতিতে রাফি, আতিক, শুভ ও শিশির এই চার শিক্ষার্থী আহত হয়। এদেরকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে রাফি এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে।”
তবে হোস্টেল সুপার শোভন কুমার সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনুষ্ঠানে মিউজিক বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা শাসন করেছি।”
বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে জানান তিনি।
গুলশানে প্রধান ক্যাম্পাসসহ ঢাকায় সাতটি ক্যাম্পাসে চলছে ক্যামব্রিয়ানের শিক্ষা কার্ক্রম। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।
বুধবার রাতের অনুষ্ঠানে ২, ৪ ও ৬ নম্বর ক্যাম্পাসের চার শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী অংশ নেয় বলে জানান মাহবুব হাসান।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন জানিয়ে এই উপাধ্যক্ষ বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, সামনে সন্তানদের ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকায় তারা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করেননি।
গত ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ কর্মসূচিতে যেতে চাওয়ায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
ওই সময় ক্যামব্রিয়ানের চেয়ারম্যান এম কে বাশার শাহবাগ নিয়ে অভিযোগ নাকচ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “তিনজন ছাত্র স্কুলের নিয়ম ভঙ্গ করায় তাদেরকে বেত্রাঘাত করেছি।”