Published : 19 May 2013, 05:38 PM

এ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রির সভাপতি বাপ্পাদিত্ত বসু রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভা সমাবেশ ও মিছিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থানীয় গণজাগরণ মঞ্চ সমাবেশ স্থগিত করেছে।”
তবে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সচেতনা বৃদ্ধি করতে ঢাকার বাইরে গণজাগরণ মঞ্চের মতবিনিময় সভাগুলো নির্ধারিত সময়েই হবে বলে জানান তিনি।
রোববার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নতুন গঠিত জোরারগঞ্জ থানার উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “যারা সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সমাবেশকে দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেয়, জনসাধারণের ওপর অত্যাচার করে, সভা-সমাবেশের নামে গাড়ি ভাংচুর করে, দোকানপাটে আগুন দেয়- তাদের বা কোনো দলকে একমাস সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একই ধরনের কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় বলে, কোনো দলের কর্মসূচিতে জানমালের ক্ষতি বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেবে না সরকার। তবে ‘সাধারণ’ সভা-সমাবেশে সরকারের আপত্তি নেই।
“এটা কোনো নিষেধাজ্ঞা নয় বরং জনগণের জানমাল রক্ষার্থে পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা।”
বাপ্পাদিত্য জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ মে নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ২৩ মে নাটোর, রাজশাহী এবং ২৪ মে পাবনা ও বগুড়ায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মঞ্চের উদ্যোক্তারা।
সারা দেশের প্রতিনিধিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ৩ মে মাসব্যাপী এই কর্মসূচি ঘোষণা করে গণজাগরণ মঞ্চ, যার মধ্যে গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় সমাবেশের কর্মসূচিও রয়েছে।
সে অনুযায়ী, সোমবার ময়মনসিংহে এবং ৩১ মে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে জাগরণ মঞ্চের।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
গত ৬ মে ভোরে পুলিশ শাহবাগ থেকে মঞ্চের স্থাপনা তুলে দিলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।