Published : 17 May 2013, 07:14 PM
গণভবনে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।
কার্যনির্বাহী সংসদের বিভাগীয় এবং সাংগঠনিক একাধিক সম্পাদক জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হলে সবাই ওই সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকে থাকার পক্ষে মত দেন।
পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাখার বিষয়েও সায় দেন তারা।
অবশ্য সংলাপ নিয়ে দরকষাকষির মধ্যে প্রধান একটি বাংলা দৈনিক দু’দলের সূত্রের বরাত দিয়ে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রস্তাবিত সর্বদলীয় সরকারে বিএনপির আপত্তি না থাকলেও প্রধান নির্বাহীর পদে শেখ হাসিনাকে মানতে রাজি নয় তারা। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগও এ বিষয়ে ছাড় দিচ্ছে না।

এই অবস্থায় সংলাপ নিয়ে দু’পক্ষের কথা চালাচালি কার্যত রাজনৈতিক বোলচালে পরিণত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে দশম জাতীয় সংসদ আগামী নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী ৭ জুন ছয় দফা দিবস এবং ২৩ জুন দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ১৫ মে হয়ে যাওয়া বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের দেওয়া মতামত উপস্থাপন করলে কার্যনির্বাহী সংসদ তা অনুমোদন করে।
এছাড়াও আগামী নির্বাচনী, বিরোধী দলের অবস্থান ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহা উদ্দিন নাছিম, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আব্দুর রহমানসহ কয়েক জন নেতা।
প্রধান বিরোধীদলকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও তাদের অবস্থান বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে মত দেন শীর্ষ নেতারা।
অবশ্য কার্যনির্বাহী সংসদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েজন জানিয়েছেন।
তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের সতর্ক করে বলেছেন- কারা কারা সভার সিদ্ধান্ত বাইরে প্রকাশ করে সেই তথ্য তার কাছে আছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত দু’এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করা হবে।