০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার

“এগুলো চরিত্রহনন ও ঘৃণার রাজনীতি।”

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার
ওলিকে আটক করার পর জেলা পুলিশ রেঞ্জ থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Mar 2026, 11:03 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

মাস ছয়েক আগে নেপালে তরুণরা যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছিল, তাতে প্রাণঘাতী দমন অভিযান পরিচালনার অভিযোগে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সেখানে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন—যাদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত অনেক বিক্ষোভকারী রয়েছেন। সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে এ আন্দোলন শুরু হলেও এর পেছনে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করেছিল।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংসতা তদন্তে গঠিত প্যানেল এ দুজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে মামলা করার সুপারিশের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বিবিসি লিখেছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে জয় পাওয়া র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন শাহ (৩৫) প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পরদিনই এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।

কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, “তাদের আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৭৪ বছর বয়সি অলি এবং ৬২ বছর বয়সি লেখকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

ওলি এর আগে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংকেও গ্রেপ্তারের সুপারিশ করা হয়েছিল। 

ওলি অন্নপূর্ণা পোস্টকে বলেছিলেন, “এগুলো চরিত্রহনন ও ঘৃণার রাজনীতি।”

গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা, নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ্গ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়... এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।”

সোশাল মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে গত ৮ সেপ্টেম্বর কথিত জেন-জি বিক্ষোভের সময় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরও ছিল।

উচ্চ বেকারত্ব, স্থবির অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সৃষ্ট হতাশার মধ্যে এই দমন অভিযান আরও বড় বিক্ষোভের জন্ম দেয়। তাতে আরও মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং পার্লামেন্ট, পুলিশ স্টেশন ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত ৭৬ জনের পরিবারের সদস্যরা গত কয়েক মাস ধরে দায়ীদের বিচার দাবি জানিয়ে আসছেন।

আন্দোলনের মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করা ওলি গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এতে বালেন শাহর রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) বিপুল জয় লাভ করে। নেপালের নির্বাচনি ব্যবস্থায় একক কোনো দলের সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হলেও কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।