ট্রাম্পকে কানাডার জবাব, লেক অন্টারিওর তীরে বসানো হল বিশাল সাইনবোর্ড
দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে।
ঐতিহাসিক লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার যে নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার কড়া জবাব দিয়েছে কানাডা।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্তের পাল্টায় লেকের কানাডা অংশের তীরে একটি বিশাল সাইনবোর্ড বসিয়েছেন অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে, “লেক অন্টারিও। আছে এবং থাকবে।”
নতুন এই সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ডগ ফোর্ড বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বহু আগে থেকে এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও ছিল। আর ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বহু পরেও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।”
তিনি বলেন, “কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষা করতে গিয়ে মাথা নত করেনি বলেই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প বা অন্য যে কেউই হোক না কেন, সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই আমরা এই সাইনবোর্ড বসিয়েছি। এটি লেক অন্টারিও ছিল, চিরকাল তাই থাকবে।”
দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে।
কানাডার পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং জবাবে কানাডার পাল্টা শুল্কের ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম বদলের ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেন।
এদিকে আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প নিজে ‘লেক অন্টারিও’ লেখা একটি সাইনবোর্ড লাথি মেরে ফেলে দিয়ে সেখানে ‘ওয়েলকাম টু লেক আমেরিকা’ লেখা বোর্ড বসাচ্ছেন।
অন্য একটি ভিডিওতে ট্রাম্পের মত চুল ও হাতে রাইফেল নিয়ে একঝাঁক রাজহাঁসকে হ্রদের উপকূল পাহারা দিতে দেখা যায়।
ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপকে পাত্তা দিচ্ছে না কানাডা সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, “যে কোনো জিনিসকে তার নিজস্ব সঠিক নামেই ডাকা উচিত। এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও, আছে এবং থাকবে।”
বিবিসি লিখেছে, উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত ‘গ্রেট লেকস’-এর সবচেয়ে ছোট এই হ্রদটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত।
অন্টারিওসহ এখানকার চারটি প্রধান হ্রদের নামই এসেছে আদিবাসীদের শব্দ থেকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একক দেশ যৌথ জলসীমার নাম একতরফা পরিবর্তন করতে পারে না।
এর আগে ট্রাম্প একইভাবে মেক্সিকো উপসাগরের (গালফ অব মেক্সিকো) নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা নিয়ে মেক্সিকোর তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।
