২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধে নিহত ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের জানাজা অনুষ্ঠিত

যুদ্ধে নিহত ইরানের অন্তত ১৬ জন বিজ্ঞানী ও ১০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারের জানাজা এদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুদ্ধে নিহত ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের জানাজা অনুষ্ঠিত
যাদের জানাজা হয়েছে তাদের কফিনগুলো গাড়িতে করে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jun 2025, 06:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:17 PM

ইসরায়েলের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে নিহত ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও কিছু বেসামরিকের জানাজা রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার নিহতদের শেষ বিদায় জানাতে তেহরানের রাস্তায় কালো পোশাক পরা ইরানিদের ঢল নামে।   

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, যাদের জানাজা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন বিজ্ঞানী ও ১০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার আছেন। সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নিহত প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের বিমান বাহিনী প্রধান জেনারেল আমির আলি হাজিজাদেহ।  

কফিনগুলো ছবি ও জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো ছিল। ছবি: রয়টার্স 

কফিনগুলো

রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের কফিনগুলো গাড়িতে করে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিনগুলো ছবি ও জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো ছিল। জানাজায় যোগ দিতে আসা কিছু মানুষ কফিনগুলো ছুয়ে তাদের আবেগ প্রকাশ করছিলেন ও গোলাপের পাপড়ি ছিটাচ্ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছবিও দেখানো হয়েছে। 

পরে আজাদি স্কয়ারে নিহতদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘ক্ষমতার শহীদদের মিছিল’ নামের এই শেষকৃত্য যুদ্ধে নিহত ৬০ জনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়, তাদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন শিশু ছিলেন। 

জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্যতম উপদেষ্টা আলি শামখানি, খামেনির ছেলে মোজতাবাসহ অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি হামলায় শামখানি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। 

জানাজায় যোগ দিতে আসা কিছু মানুষ কফিনগুলো ছুয়ে তাদের আবেগ প্রকাশ করেছেন। ছবি: রয়টার্স

জানাজায় যোগ দিতে আসা কিছু মানুষ কফিনগুলো ছুয়ে তাদের আবেগ প্রকাশ করেছেন

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। নিহতদের শেষ বিদায় উপলক্ষ্যে আরাকচি টেলিগ্রাম পোস্টে একটি বিবৃতি দিলেও সর্বোচ্চ নেতা খামেনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেননি। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে খামেনি আর প্রকাশ্যেও আসেননি।  

এর আগে বিভিন্ন হামলায় নিহত ইরানের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের জানাজায় খামেনিই ইমামতি করেছিলেন। 

১৩ জুন ইসরায়েলের প্রথম হামলায়ই শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বাঘেরি, সালামি ও হাজিজাদেহ নিহত হন। বাঘেরিকে শনিবার তেহরানের নিকটবর্তী বেহেশত জাহরা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সালামি ও হাজিজাদেহকে রোববার দাফন করা হবে।   

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অস্ত্ররিবতি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানে ৬১০ জন নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ৪৭০০ জনেরও বেশি।