০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি পদচ্যুত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেইন সামরিক আইনের অধীনে আছে, এ সময় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই।

ইউক্রেইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি পদচ্যুত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইউক্রেইনের পদচ্যুত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 04:39 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

ইউক্রেইনের পদচ্যুত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধকালীন নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেছেন।

বিবিসি লিখেছে, সাড়ে চার বছর আগে রাশিয়া পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এটিকে ব্যাপকভাবে ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

ফেদোরভ (৩৫) মঙ্গলবার ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বলেছেন, “গণতন্ত্রকে রাশিয়ার হাতে জিম্মি করে রাখা যায় না। ইউক্রেইন লড়াই করছে ঠিক এই কারণে যে আমরা একটি মুক্ত ইউরোপীয় দেশ হিসেবে থাকতে চাই।”  

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেইন সামরিক আইনের অধীনে আছে, যার মানে নির্বাচন স্থগিত থাকবে।  

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ছয় মাস পর জুলাইতে ফেদোরভকে অপ্রত্যাশিতভাবে পদচ্যুত করেন জেলেনস্কি। ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর ইউক্রেইনজুড়ে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছিল। 

ফেদোরভ নিজের ভিডিওতে জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি আর তার ভিডিও নিয়ে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট শেষ খবর পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।     

অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন ফেদোরভ। তিনি মন্ত্রণালয়টিকে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আর যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা বিশ্লেষণ ও উন্নয়নে তথ্যউপাত্ত ব্যবহার শুরু করেছিলেন।    

মূলত তার সঙ্গে সেনাপ্রধান অলেক্সান্দর সিরস্কির বিরোধের জেরে তাকে পদচ্যুত করা হয় বলে ব্যাপকভাবে গৃহীত মত। ফেদোরভকে পুনর্বহালের দাবিতে বাড়তে থাকা বিক্ষোভের মুখে চাপে পড়া জেলেনস্কি কিছুদিনের মধ্যে সিরস্কিকেও সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। 

ফেদোরভকে সরকারের সামরিক উদ্ভাবন বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীসহ অন্য বেশি কয়েকটি পদ প্রস্তাব করা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফেরা ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হননি। 

ফেদোরভ তার ভিডিও পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি জানান যে, তিনি পার্লামেন্টকে অস্থায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারার নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলেছেন। বুধবার এ বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা আছে। 

ইউটিউব ভিডিওতে ফেদোরভ নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত তুলে ধরেননি। তার বদলে একটি ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা, যা ইউক্রেইনকে দীর্ঘস্থায়ী ‍যুদ্ধের মধ্যেও পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার করার সুযোগ করে দেবে’, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

তার এই নির্বাচনের আহ্বানে কিছু ইউক্রেইনীয় ভাষ্যকার বিরক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সমর্থন করা কয়েকজনও আছেন। এদের মধ্যে থাকা জেলনস্কির সমালোচকদের একজন বলেছেন, এমনকী সরকারের কট্টর বিরোধীরাও বুঝতে পারছেন যে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। 

জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ইউক্রেইনের সংবিধান অনুযায়ী দেশে সামরিক আইন চলাকালে কোনো নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই।