২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, হাহাকার

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতে ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদেরও, কারণ তাদের মানবিক সহযোগিতার ৫৫ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, হাহাকার
ছবি রয়টার্সের

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2025, 02:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:47 AM

ঘানা ও কেনিয়ায় কীটনাশক ও অসংখ্য মশারির জাল ‍গুদামে পড়ে আছে, কেননা মার্কিন কর্মকর্তারা ম্যালেরিয়াবিরোধী জরুরি অভিযানে এখনও অনুমোদন দেননি। 

হাইতিতে যে দলটি এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয় তারা অপেক্ষায় আছে ওষুধ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির, এসব ওষুধ নবজাতকের শরীরে মরণঘাতী রোগটি ছড়িয়ে দেওয়া থেকে তাদের মা’দের বিরত রাখবে।

দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাঁকিয়ে বসা মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রই একক বৃহত্তম সাহায্য দাতা, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ‘গোলযোগপূর্ণ’, বলছেন এক মানবিক সহায়তাকর্মী। 

কিছু ব্যতিক্রম বাদে বিদেশে সব সহায়তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্থগিত করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জীবন-রক্ষাকারী অসংখ্য কর্মসূচি বন্ধ হয়ে পড়েছে; এদিকে মানবিক সহায়তাকর্মীরাও তাদের কর্মসূচি চালু রাখতে মার্কিন সরকারের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে কঠোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, কয়েক ডজন সহায়তাকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার দিনই ট্রাম্প বিদেশে সহায়তায় ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ দেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জীবন-রক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সেবা, খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য অতিজরুরী সেবাসহ ‘জীবন-রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা’ এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। 

ছাড়ের এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি এবং মার্কিন অর্থায়ন আর কখনো আগের অবস্থায় যাবে না এমন আশঙ্কাও সৃষ্টি করেছ, বলছেন সহায়তাকর্মী ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। 

তারা বলছেন, কোন কোন কর্মসূচি ছাড় পাওয়ার যোগ্য মার্কিন কর্মকর্তাদের দিক থেকে সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে তারা কাজ পুনরায় শুরু করতে পারছেন না। ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের অনেককে বরখাস্ত, কাউকে কাউকে কথা বলতে বারণ করে দেওয়ায় ছাড়ের প্রসঙ্গ নিয়ে যোগাযোগও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্য দেশে কর্মরত সহায়তাকর্মীদের এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসনের ছকেরই অংশ। 

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রধান ভূমিকা পালন করা ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) কর্মীদের গত ৩১ জানুয়ারি কী কী ছাড়ের আওতায় আছে আর কী নেই তা নিয়ে বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে বলে সভাটির পূর্বে অপ্রকাশিত এক রেকর্ডিংয়ে শুনতে পেয়েছে রয়টার্স। 

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চাওয়া হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউজ তাতে সাড়া দেয়নি।  

এই পরিস্থিতিতে সহায়তাকর্মী কিছু জরুরি প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন না। সেগুলোর মধ্যে আছে- কোন কোন কর্মসূচি চলবে? জীবন-রক্ষাকারী সহায়তা বলতে কী বোঝায়? খাদ্য? আশ্রয়? ওষুধ? যখন প্রায় সব সহায়তা একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন কীভাবে তারা মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবেন?

মার্কিন কর্মকর্তাদের দিক থেকে যৎসামান্য নির্দেশনা থাকায়, তাদের সংস্থাগুলো এখন সতর্ক অবস্থানে থেকে মার্কিন সরকার পরিশোধ নাও করতে পারে এমন ব্যয়ের চেয়ে কর্মসূচিই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছে, বলছেন সহায়তাকর্মীরা। বছরের পর বছর ধরে কাজ করা মার্কিন অংশীদাররা যে এখন আর তাদের ফোন বা ইমেইলের উত্তর দিচ্ছেন না, এমনটাও বলেছেন অনেকে।  

কেউ কেউ যে উত্তর পাচ্ছেন, তা শুনে তারা স্তম্ভিতও হয়ে পড়ছেন। 

“আমরা জানতে চেয়েছিলাম, সুনির্দিষ্ট কোন কোন আমরা কর্মসূচি বন্ধ করবো? এর জবাবে আমরা একটি বার্তা পাই, যেখানে বলা হয়েছে, ‘আর কোনো নির্দেশনা আসছে না’। এতে আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে পড়লাম, যেখানে আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন কর্মসূচিটি জীবন-রক্ষাকারী। আমাদের নিজেদের কাছে এসব কর্মসূচিতে খরচ করার মতো টাকা নেই। তারা ছাড় করবে কিনা, তা না জেনে আমরা খরচও করতে পারছি না,” বলেছেন জেনিভায় কাজ করা এক সহায়তাকর্মী।

অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি ইউএসএআইডিতে, সরকারের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করা ট্রাম্পের সেনাপতি ধনকুবের ইলন মাস্ক যে সংস্থাটিকে ‘ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন’ অ্যাখ্যা দিয়ে বন্ধ করে দিতে চাইছেন। 

নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পও বলেছেন, মার্কিন ‘বৈদেশিক সহায়তা খাত ও আমলাতন্ত্র’ অনেক ক্ষেত্রেই ‘আমেরিকান মূল্যবোধের পরিপন্থি’। কোন কোন সহায়তা তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে মেলে তা খতিয়ে দেখতে তিনি এই ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ দেন। 

তার এ সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে যারাই রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের বেশিরভাগই তাদের নাম না প্রকাশে অনুরোধ করেছেন। এর পেছনে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপে যেতে পারে এমন ভয়তো আছেই, আছে সহায়তা যদি আর চালু না করে সেই আশঙ্কাও। 

মিয়ানমারে সহায়তা সংস্থার দুই কর্মী বার্তা সংস্থাটিকে বলেছেন, মার্কিন অর্থায়নে খাদ্য সরবরাহের যে কর্মসূচি সেটি রুবিওর ছাড়ের তালিকায় পড়েছে কিনা, এবং এটি চালু থাকবে কিনা তা তারা জানেন না। এর মধ্যে এক কর্মী পরিস্থিতিকে ‘গোলযোগপূর্ণ’ অভিহিত করেছেন। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাড়তে থাকা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটি এখন ভয়াবহ খাদ্য সংকট মোকাবেলা করছে; দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির আনুমানিক ২০ লাখ মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, বলছে জাতিসংঘের হিসাব। 

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতে ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরও। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে জীর্ণ শিবিরে থাকা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহযোগিতার প্রায় ৫৫ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।  

স্থানীয় সাহায্য সংস্থার কাছে পাঠানো পূর্বে অপ্রকাশিত এক খসড়া বার্তায় রোহিঙ্গাদের শিবির দেখভালের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ বলেছে, মার্কিন সহায়তা স্থগিতে ‘অনেক প্রয়োজনীয় ও জীবন-রক্ষাকারী সেবা’ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও ওই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি তাতে সাড়া দেয়নি।  

বাংলাদেশে জাতিসংঘের এক কর্মী কোন কোন কর্মসূচি চালু থাকবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দায়িত্বে থাকা মার্কিন কর্মকর্তা ‘তার ফোন ধরেননি’। 

আফ্রিকার ঘানা ও কেনিয়ায় চলতি মাস থেকে সহায়তাকর্মীদের ম্যালেরিয়ারোধী স্প্রে অভিযান শুরু করার কথা, কেননা বর্ষাকালে দেশদুটিতে মশার বিপুল বংশবিস্তার ঘটে, তা থামাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।  

কিন্তু অভিযান শুরু তো দূর, উল্টো বিপুল পরিমাণ কীটনাশক এবং লাখ লাখ মশারি গুদামে পড়ে আছে, বলেছেন ইউএসএআইডির এক ঠিকাদার।  

চলতি মাসের ৪ তারিখের ইউএসএইআইডির এক মেমোতে ম্যালেরিয়া, যক্ষা ও অন্যান্য রোগ এবং জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলাকে ‘জীবন-রক্ষাকারী কাজ’ হিসেবে গণ্য করার কথা জানানো হয়েছে, অর্থ্যাৎ এগুলো ট্রাম্পের স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। শনিবার এই মেমো রয়টার্স দেখেছেও। 

কিন্তু সহায়তা কর্মীরা কখন অর্থায়ন ফের শুরু হবে, আফ্রিকায় সুনির্দিষ্ট ম্যালেরিয়া কর্মসূচি কখন পুনরায় শুরু করা যাবে তা নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করায় লাখো মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এই কর্মসূচিটি কার্যত থমকে আছে, বলেছেন ওই ঠিকাদার।      

প্রতিরোধযোগ্য রোগ ম্যালেরিয়া মূলত ছড়ায় আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে এই রোগে যে ৫ লাখ ৯৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার বড় অংশই পাঁচ বছরে কম বয়সী আফ্রিকান শিশু, ডিসেম্বরে এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

“এই (ম্যালেরিয়ারোধী) কর্মসূচিগুলো করতে ছোট একটি জানালা খোলা আছে, যেটিও দ্রুত বন্ধ হতে চলেছে,” বলেছেন ইউএসএআইডির ঠিকাদার।  

সহায়তাকর্মীরা বলছেন, আফ্রিকায় ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরঞ্জাম পাঠাতে মার্কিন করদাতাদের লাখ লাখ ডলার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতের ফলে ১ কোটি ৫৬ লাখ জীবন-রক্ষাকারী সরঞ্জাম, ৯০ লাখ মশারি ও ৪ কোটি ৮০ লাখ প্রতিরোধমূলক ওষুধের বিতরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বলেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ম্যালেরিয়া নো মোর। 

বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যে লড়াই, তাতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বেশিরভাগই যা দেশটির প্রেসিডেন্টের ম্যালেরিয়া প্রকল্প পিএমআই থেকে, ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। 

পিএমআইয়ের ওয়েবসাইটে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যাসহ এ রোগ সংক্রান্ত নানান তথ্য থাকতো। কিন্তু এখন ওয়েবসাইটটি বন্ধ রয়েছে, সেখানে গেলে ছোট একটি বার্তা দেখাচ্ছে, যাতে লেখা রয়েছে, “প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ওয়েবসাইটটি আপাতত রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে রয়েছে, আমরা দ্রুততার সঙ্গে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমস্ত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখছি।”

“যেন সব কাজ মুছে গেছে। এটা খুবই নির্দয় ও অর্থহীন হয়েছে। এই অপচয় আমাকে অবাক করে দিচ্ছে,” বলেছেন কিছুদিন আগেও মন্টানা থেকে ইউএসএআইডির কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা অ্যান লিন। গত মাসের ২৮ তারিখ তার চাকরি চলে যায়।

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেসব কর্মসূচিকে ছাড় দিয়েছে তার মধ্যে হাইতিতে এইডস রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া কর্মসূচিটিও আছে। কিন্তু এটি চালু রাখতে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত নির্দেশনা না পাওয়ায় কর্মসূচিটি এখনো বন্ধই আছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার এক কর্মী।  

এই কর্মসূচিতে অর্থ যায় পেপফার নামে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ থেকে, এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

পেপফারের ব্যবস্থাপনায় থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইতির এইচআইভি কর্মসূচি যে জীবন-রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার ছাড়ের আওতায় আছে তা জানিয়েছিল। 

কিন্তু ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এমন নিশ্চিয়তা দিয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি, বলেছেন ওই কর্মী।  

“পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত সব বন্ধ,” বলেছেন তিনি। 

এর ফলে গর্ভবতী নারীরা বেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, কেননা হাইতির এই কর্মসূচিতে দেওয়া ওষুধ মায়েদের কাছ থেকে নবজাতকদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। পেপফারের মাধ্যমে হাইতির দেড় লাখ এইডস আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি চিকিৎসা পেতেন, জানিয়েছেন ওই কর্মী।  

২০২৪ সালে হাইতির মানবিক সহায়তা তহবিলের ৬০ শতাংশই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরিমাণ ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বলছে মার্কিন ফাইন্যান্সিয়াল ট্র্যাকিং সার্ভিসের তথ্য।

ইউএসএআইডিতে অস্থিরতা

ট্রাম্পের সহায়তা স্থগিতে বিশ্বজুড়ে যে গোলযোগ তাকে আরও তীব্র করেছে ইউএসএআইডির অস্থিরতা, যে সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের ট্রাম্প ‘উগ্র বাম উন্মাদ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। 

বিশ্বজুড়ে সংস্থাটিতে কর্মরত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এখন মাত্র ৬১১ জনকে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে ৫ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটিতে পাঠানো এক নোটিসে বলা হয়েছে। রয়টার্স নোটিসটি দেখেছে।  

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে ক্ষমতায় বসার পর তার ঘনিষ্ঠ মাস্ককে প্রশাসন পুনর্গঠনের যে দায়িত্ব দিয়েছেন তাতেই কোপে পড়েছে বিদেশে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ওয়াশিংটনের প্রধান সংস্থাটি। 

এর কর্মীদের এখন ওয়াশিংটনে সংস্থার সদরদপ্তরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও নিজেই সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হয়ে বসেছেন।  

পানি ও পয়োনিষ্কাশনে বিশেষজ্ঞ এক নারী বলছিলেন, ২৮ জানুয়ারি তাকেসহ কয়েক ডজন কর্মীকে বরখাস্তের পর ইউএসএআইডির বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যুরোতে দেখা দেওয়া ‘ব্যাপক বিভ্রান্তির’ কথা।   

“এটা এত দ্রুত হয়েছে যে ইমেইল, যোগাযোগের নাম্বার, ঠিকানা নেওয়ার কোনো পথই ছিল না। আমাদের সবাইকে ছুড়ে ফেলে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল,” বলেছেন তিনি।  

‘মানুষ মারা যাচ্ছে’

বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সেবা স্থগিত থাকায় থাইল্যান্ডে মার্কিন সহায়তায় স্বাস্থ্য ক্লিনিক পরিচালনাকারী ইন্টারন্যাশনল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তে সাতটি শরণার্থী শিবিরে তাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো দ্রুত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আইআরসিকে বলেছিলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা যাবে না। ওই নির্দেশনা এখনো আসেনি, বলেছেন এক সহায়তাকর্মী।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে গর্ভবতী নারী ও শিশু এবং গুরুতর অসুস্থ অনেককেই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়েই তারা আইআরসির ওই কেন্দ্রগুলো ছেড়ে যান, বলেছেন সীমান্ত শিবিরে ব্যাংককের মহিদুল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ফিল্ড স্টেশন শোকলো ম্যালেরিয়া রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া নোস্টেন। 

ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক নারী হাসপাতালের অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার চারদিন পর তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। রয়টার্স ওই নারীর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। 

যতক্ষণ না সহায়তা থাই কর্তৃপক্ষের কাছে আসে, ততক্ষণ নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে অনেক শরণার্থী নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আইআরসির এক মুখপাত্র।

“আপনি যদি সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন, তাহলে অনেকেই মারা পড়বে,” বলেছেন নোস্টেন।