২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন: ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক শিশুকে বাঁচানোয় এক নার্সকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার সিতারা-ই-খিদমত দেওয়ার সুপারিশ।

পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন: ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে আগুনে মৃত নবজাতকদের স্মরণ করা হয় মোমবাতি প্রজ্বালন আর ফুল দিয়ে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 10:26 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালে আগুন লেগে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সিএনএন লিখেছে, প্রাণহানির ঘটনায় যারা দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নিতেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা শহিদ খান নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি বুধবার পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়ার পর এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গত ২৬ অগাস্ট ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি নবজাতক পরিচর্যা কক্ষের মধ্যেই আগুন সীমাবদ্ধ ছিল। তবে কর্মকর্তারা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে সেখানে থাকা ১৫ শিশুর মধ্যে কর্মীরা মাত্র একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে দেখা গেছে, ওই কক্ষে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা অ্যালার্ম বা স্প্রিংকলার ব্যবস্থা ছিল না। এ ছাড়া আগুন ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালটিতে সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি ও প্রশিক্ষণেরও ঘাটতি ছিল।

বরখাস্ত হওয়া আট কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেনহাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক, দুজন যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক, নবজাতক বিভাগের প্রধান, আরও দুজন চিকিৎসক, হাসপাতালের নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী পরিচালক এবং ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভেঙে পড়েন এ মা। ছবি: রয়টার্স

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভেঙে পড়েন এ মা

পাকিস্তান সরকার ইতোমধ্যে নিহত নবজাতকদের প্রতিটি পরিবারের জন্য ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী তদন্তে দেখা গেছে, আগুন লাগার সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কর্মস্থলে ছিলেন না। ওয়ার্ডে ছিলেন দুজন নার্স, একজন নারী নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন হাউস অফিসার।

আগুন লাগার ছয় মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয় এবং খবর পাওয়ার ১৫ মিনিট পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তদন্তকারীরা দেখতে পেয়েছেন, হাসপাতালের ১৩টি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) মাত্র দুটিতে আগুন বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টি রয়েছে।

শনিবারের বৈঠকে নবজাতক পরিচর্যা কক্ষে আগুন লাগার প্রায় দুই মিনিটের সিসিটিভি ভিডিও দেখানো হয়। ভিডিওটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের শিখা পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ার আগে একজন নার্স নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক শিশুকে উদ্ধার করেন। শরিফ ওই নার্সকে জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার সিতারা-ই-খিদমত দেওয়ার সুপারিশ অনুমোদন করেছেন।

ওই ঘটনার পর পাকিস্তানের হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।