০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের উপকূলরেখা বরাবর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে।

হরমুজের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা
ইরানের অজ্ঞাত একটি স্থানে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার পর সেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Mar 2026, 04:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের সচল করার লক্ষ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের ভাণ্ডারে থাকা অন্যতম শক্তিশালী এই বোমাগুলো দিয়ে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষিত লক্ষ্যস্থলগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের উপকূলরেখা বরাবর অবস্থিত সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৫০০০ পাউন্ড (প্রায় ২২৬৮ কেজি) ওজনের একাধিক ‘ডিপ পেনিট্রেটর’বা বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “মার্কিন বাহিনী সফলভাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক ৫০০০ পাউন্ডের ডিপ পেনিট্রেটর বোমা ব্যবহার করেছে। এসব ঘাঁটিতে থাকা ইরানের জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইরান বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই বোমাবর্ষণ করা হলো। 

ইরানের এই অবরোধের ফলে ওই প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে।

ট্রাম্পের আহ্বানে মিত্রদের সাড়া নেই

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তেলের সরবরাহ সচল করতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে নেটোসহ অধিকাংশ মিত্র দেশ সাড়া না দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই একক সামরিক পদক্ষেপ নিল।

নিজের শুরু করা এই যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ‘বিশ্বের মঙ্গলের জন্যই’ এই যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, যদিও বিশ্ব তার এই প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করছে না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, নেটোকে যুক্তরাষ্ট্র এত সাহায্য করা সত্ত্বেও তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা সব মিত্র দেশেরই স্বার্থের বিষয়। 

যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।

ট্রাম্প বলেন, “আপনি হয়তো ভেবেছিলেন তারা বলবে, ‘আমরা কয়েকটি মাইনসুইপার (মাইন পরিষ্কারকারী জাহাজ) পাঠাতে চাই।’ এটা তো খুব বড় কোনো ব্যাপার না এবং এতে খুব বেশি খরচও হয় না। কিন্তু তারা তা করেনি।”

মিত্রদের ওপর অসন্তোষ থাকলেও ট্রাম্প জানান, যুদ্ধের পুরো দায়ভার একা তার কাঁধে এলেও তিনি এতে ‘পিছু হটবেন না’। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পকে এই পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করলেও, ট্রাম্প নিজেই বারবার দাবি করেছেন যে সংঘাতের এই পথ তিনি একাই বেছে নিয়েছেন। 

ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের হুমকি সম্পর্কে তার একটি ‘ধারণা’ থেকে এই যুদ্ধের শুরু এবং তার মন যখন বলবে তখনই এর শেষ হবে।

৫,০০০ পাউন্ডের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা

‘বাঙ্কার বাস্টার’ নামে পরিচিত এই বোমাগুলো মাটির অনেক গভীরে থাকা বা বিশেষভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। ‘এয়ার ফোর্স টাইমস’-এর ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি বোমার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৮৮ হাজার ডলার। 

উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যে ৩০,০০০ পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছিল, এই বোমাগুলো তার তুলনায় কম শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: 

ইরান যুদ্ধে সাহায্য না করে নেটো বোকার মতো ভুল করছে: ট্রাম্প