বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ
যুদ্ধ এবং চরম আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় খাদ্যমূল্য চারবছরের মধ্যে চলতি মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে- বলছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে, অগাস্ট মাসে তাদের খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
যুদ্ধ এবং চরম আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় খাদ্যের দামের এই বৃদ্ধি ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
খাদ্যমূল্য সূচকের প্রতিটি খাদ্যপণ্য, যেমন: শস্যদানা, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্যর দাম চলতি মাসে বেড়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, খাদ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া খাদ্যপণ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
যেসব পণ্যের দামের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল, সেগুলোর মধ্যে চিনির দাম সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়েছে (জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি)।
ফলে চিনি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ছিল। কারণ, এর দাম গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে ঠেকেছে। খাদ্যশস্যের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কৃষ্ণসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল সামরিক হামলার কারণে ব্যাহত হওয়ায় গম এবং ভুট্টা দাম বেড়েছে। কৃষ্ণসাগর রাশিয়া ও ইউক্রেইনের শস্য রপ্তানির একটি প্রধান পথ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহে আলাদাভাবে সংকট তৈরি হয়েছে।
ইরানের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান অবরুদ্ধ করে রাখায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্বের সার বাণিজ্যের বড় অংশই এই জলপথ দিয়ে হয়।
পাইকারি বাজারে যখন খাবারের দাম বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কয়েক মাসের মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।
তাই খাবারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল সুপারমার্কেটের কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা পুরো অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং এল নিনিও (প্রশান্ত মহাসাগরের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা, যা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ওলোটপালোট করে দেয়) ফিরে আসার কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
এই গ্রীষ্মে ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে গেছে। অন্যদিকে, এল নিনিও এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদন হুমকির মুখে ফেলেছে।
জাতিসংঘ সংস্থা ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে যে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও ৫ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।
