০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সীমান্ত সুরক্ষিত না হলে ভারত নিরাপদ থাকবে না: অমিত শাহ

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্ত সুরক্ষিত না হলে ভারত নিরাপদ থাকবে না: অমিত শাহ
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 04:55 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ কিংবা গোটা ভারত কোনওটিই নিরাপদ থাকবে না।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন অমিত শাহ। 

তার অভিযোগ, আগের সরকারকে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য জমি দিতে বারবার অনুরোধ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসএসবি ফ্রন্টিয়ারের সদরদপ্তরে যান তিনি। সেখানে সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। 

এসএসবি জওয়ানদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও সারেন তিনি। অনুষ্ঠানে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী  জমি দিয়েছেন বলে সার্টিফিকেট দেন অমিত শাহ। 

এসএসবি’র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, এর আগে রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রীই সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) বা বিএসএফ-এর অনুষ্ঠানে কখনও যোগ দেননি ।

সেই জায়গা থেকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় তাকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানান এবং তার ভূমিকার প্রশংসা করেন অমিত শাহ।

আগের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ২০১৪ সাল থেকে ১১২৯ একর জমি চাওয়া হলেও এতদিন তা পাওয়া যায়নি। এমনকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি ।

তার কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম, তবু জমি মেলেনি। শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরই সেই জমি পাওয়া গেছে।”

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, রাজ্যের সমস্যা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। 

অমিত শাহের এদিনের বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতা দিবসের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবার স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় উপস্থিত থেকেছেন। তবে এবারের পরিবেশ ছিল অন্য রকম।  এবার প্রথম লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীত বেজেছে।

ভারতের জাতীয় গান , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রসঙ্গ তুলে অমিত শাহ বলেন, স্বাধীন ভারত কেমন হবে, তা একটি গানেই বলে দিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আক্ষেপ, স্বাধীনতা ও দেশভাগের দীর্ঘ সময় পরও ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে একটা বড় সময় ধরে মন থেকে পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

তবে এবার ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লায় প্রথম পুরো 'বন্দে মাতরম' গান গাওয়াকে অমিত শাহ এক ঐতিহাসিক ও আবেগপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।