১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেইন শান্তি চুক্তির জন্য রাশিয়া উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে: জেডি ভ্যান্স

রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আগ্রসন থেকে ইউক্রেইনকে সুরক্ষিত রাখতে দেওয়া নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রতিশ্রুতি এরমধ্যে অন্যতম বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইউক্রেইন শান্তি চুক্তির জন্য রাশিয়া উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে: জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2025, 12:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেইনের যুদ্ধ সমাধানের জন্য রাশিয়া ‘উল্লেখযোগ্য ছাড়’ দিয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার পরিষ্কার কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও তিনি    ‘অগ্রগতি হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন।  

রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস উইথ ক্রিস্টিন ওয়েলকার’ অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছু ছাড় দিয়েছেন, এরমধ্যে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আগ্রসন থেকে ইউক্রেইনকে সুরক্ষিত রাখতে দেওয়া নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রতিশ্রুতিও আছে।

সম্প্রচারিত মন্তব্যে ভ্যান্স বলেন, “আমি মনে করি, এই সংঘাতের সাড়ে তিন বছরে প্রথমবারের মতো রুশরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে।

“তারা বুঝতে পেরেছে যে তারা কিইভে পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে না। এটি, অবশ্যই, শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি ছিল। আর যা গুরুত্বপূর্ণ, তারা ইউক্রেইনের ভৌগলিক অখণ্ডতার বিষয়ে কিছু নিরাপত্তা গ্যারান্টি দিতে রাজি হয়েছে।” 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকে এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।  

রাশিয়ার হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে পুতিন ইউক্রেইনকে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরোটা ছেড়ে দিতে, নেটো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগ করতে, নিরপেক্ষ থাকতে এবং পশ্চিমা সেনাদের দেশটি থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছেন; এ বিষয়ে জ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।

রোববার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাসহ একদল দেশের ইউক্রেইনের নিরাপত্তার জামিনদার হওয়া উচিত।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেইন নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের এক সপ্তাহ পর ট্রাম্পকে এভাবেই তার হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে রাশিয়া ‘ইউক্রেইনের সঙ্গে আর অস্ত্রবিরতিতে রাজি নাও হতে পারে’ বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে শাস্তি হিসেবে চলতি মাসে ভারতীয় আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। শান্তির সন্ধানে উদ্দেশ্য সাধনের উপায় হিসেবে এ ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ব্যবহার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। 

ভ্যান্স বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) এটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন যে রাশিয়া যদি ওই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের তাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, কিন্তু হত্যাকাণ্ড বন্ধ না করলে তারা নিঃসঙ্গ হতেই থাকবে।”