০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আরব সাগরে আটকা ভারতীয় জাহাজকে উদ্ধারে ছুটে গেল পাকিস্তানের ‘কাশ্মীর’

মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাওয়ার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় জাহাজটিকে উদ্ধারে নামে।

আরব সাগরে আটকা ভারতীয় জাহাজকে উদ্ধারে ছুটে গেল পাকিস্তানের ‘কাশ্মীর’
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী এমভি গৌতমকে উদ্ধারে পিএমএসএস কাশ্মীরকে পাঠায়। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 May 2026, 02:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

যান্ত্রিক ত্রুটিতে আরব সাগরে আটকা পড়া একটি ভারতীয় জাহাজের পাঠানো বিপদ সঙ্কেত পেয়ে ছুটে গিয়ে তার ক্রু’দের উদ্ধার করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি নৌযান। 

ওমান থেকে ভারতে ফেরার পথে এমভি গৌতম নামের ওই জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যে কারণে নৌযানটি আরব সাগরে আটকা পড়ে বলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাওয়ার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় জাহাজটিকে উদ্ধার ও এর ৭ ক্রু’কে সহায়তায় অভিযানে নামে। এই ক্রু’দের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। 

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী এমভি গৌতমকে উদ্ধারে পিএমএসএস কাশ্মীরকে পাঠায়। এই উদ্ধার অভিযানে পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে পাকিস্তানের মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।

উদ্ধারের পর এমভি গৌতমের ক্রু’দের খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তাও দেয় পাকিস্তান নৌবাহিনী।

তাদের এ অভিযানের ভিডিও টুইট করেছে গালফ টাইমস। ভিডিওতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর নৌযানকে এমভি গৌতমের ক্রু’দের সহায়তা দিতে দেখা যাচ্ছে।  

একাধিক সূত্র এনডিটিভিকে বলেছে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২২ মিনিটের দিকে গান্ধীনগরে অবস্থিত ভারতীয় কোস্ট গার্ডের আঞ্চলিক সদরদপ্তর এমভি গৌতমের দুর্দশায় পতিত হওয়ার খবর পায়।  

জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রোববার ভারতীয় ওই জাহাজটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ওই ঘটনার সময় নৌযানটি পাকিস্তান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ রিজিওনের (এসআরআর) আওতায় ছিল। 

“মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার এই তথ্য পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরবর্তীতে জাহাজটি গড়ে দেড় নটিক্যাল মাইল গতিতে পূর্ব-উত্তপূর্ব দিকে ভেসে যাওয়া শুরু করে। ৪ মে রাত পৌনে ৯টা জাহাজটি দ্বারকা বাতিঘর থেকে প্রায় ২৬২ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতীয় এসআরআর-এর ভিতরে অবস্থান করছিল,” বলেছে সূত্রগুলো।

গত মাসেও পাকিস্তানের নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগর থেকে আসা জরুরি সঙ্কেত পেয়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ১৮ ক্রু’কে উদ্ধার করেছিল।

“দ্রুতগতিতে চালানো মানবিক অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনী সফলভাবে ১৮ ক্রু’কে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রু’দের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা ছিলেন। পাকিস্তানের উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আরব সাগরের উত্তরাঞ্চল থেকে বাণিজ্যিক নৌযান এমভি গোল্ড অটামের কাছ থেকে জরুরি বিপদ সঙ্কেত পেয়ে ওই অভিযানে নেমেছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনী,” বিবৃতিতে সেসময় এমনটাই বলেছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।