০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী

ওয়াশিংটন চুক্তির টেবিলে বসার বদলে তেহরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার দিকেই আপাতত বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 04:09 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত পারমাণবিক চুক্তি শেষ পর্যন্ত নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটন চুক্তির টেবিলে বসার বদলে তেহরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার দিকেই আপাতত বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, “ইরানের সঙ্গে কোনো পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যে লক্ষ্য ইরানের রয়েছে, তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার মাধ্যমেই হয়তো এর নিষ্পত্তি হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, এমন একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পথ ছেড়ে লাগাতার বোমা বর্ষণের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুললে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেন রাইট।

সাবেক এই জ্বালানি ব্যবসায়ী বলেন, “ইরানের এখন আর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং তা প্রয়োগের যে সক্ষমতা তাদের ছিল, আমরা তা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দিচ্ছি।”

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের বিপুল মজুদ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাইট ইঙ্গিত দেন, তেহরানের ক্ষমতার সমীকরণ বদলালে হয়তো চুক্তির পথ খুলতে পারে।

তিনি বলেন, “হয়তো ইরানের পরবর্তী সরকারের আমলে কোনো সমঝোতা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ জোরদার করলে ওয়াশিংটনও নৌ-অবরোধ কঠোর করে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।  

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা চললেও হোয়াইট হাউজ প্রকাশ্যে এই সংঘাতকে বেশ হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করছে।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।