১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে হামলা: শিক্ষিকার অসম সাহসিকতা, অভিভাবকের গুলিতে নিহত হামলাকারী

ওই অভিভাবকের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘মহান বীর’আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে হামলা: শিক্ষিকার অসম সাহসিকতা, অভিভাবকের গুলিতে নিহত হামলাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 12:37 PM

Updated : 17 Oct 2026, 12:37 PM

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে কিশোর গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেন, ঘটনার সময় সাহস নিয়ে তাকে জাপটে ধরেন এক শিক্ষিকা।

ওই সময় ক্লাসরুমের মেঝেতে তাদের ধস্তাধস্তির মধ্যেই এক অভিভাবক নিজের বৈধ পিস্তল নিয়ে ছুটে এসে একাধিক গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে মেরে ফেলেন।

বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে’কিশোরের গুলিতে এক শিক্ষিকা ও তিন শিশু নিহত হয়। আর অভিভাবকের গুলিতে নিহত হয় কিশোর।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ১৬ বছর বয়সি গ্রিফিন জে জন (দ্বিতীয়) ওই স্কুলেরই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সাবেক শিক্ষার্থী। সে ক্লাসরুমে প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাকে থামানোর সময় তার কাছে আরও অন্তত ৪৪ রাউন্ড তাজা গুলি ছিল।

বেন্ড পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানান, ক্লাসে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে নিজের মোবাইল ছুড়ে মারেন এক শিক্ষিকা। এরপর তিনি হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে শটগানটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সি শিক্ষার্থী রোয়াম সামার ও ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ। হামলায় আরও এক শিক্ষক ও সাত বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলাকারীকে পরাস্ত করা ওই অভিভাবকের নাম পুলিশ না জানালেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বরাতে তাকে কেইলুব জিয়াম্যাঙ্কো (৩৬) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি কেইলুবের দুই মেয়ে ওই স্কুলেই পড়ে।

স্কুলের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হামলাকারীকে বাইরে একটি গাড়িতে ও স্কুলের জানালায় গুলি চালাতে দেখেন। এরপরই গাড়িতে থাকা লাইসেন্সধারী পিস্তল হাতে ভেতরে ঢুকে হামলাকারীর ওপর একাধিক গুলি ছোড়েন কেইলুব।

কেইলুবের মা কেন্ডা ফ্রিম্যান জানান, ঘটনার পর ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তাকে ফোন করেছিলেন।

মা তাকে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা বললে ছেলে কেঁদে বলেন, “মা, আমি সবাইকে বাঁচাতে পারলাম না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই অভিভাবকের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘মহান বীর’ আখ্যা দিয়েছেন। ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেকও তার পদক্ষেপের প্রশংসা করে সহমর্মিতা জানান।

হামলাকারী কীভাবে এই অস্ত্র পেয়েছিল এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।