গ্রিনল্যান্ড গিয়ে ডেনমার্ককে একহাত নিলেন ভ্যান্স
৫৭ হাজার বাসিন্দার দ্বীপটিতে অব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ খনিজ ও তেলসম্পদ আছে বলে ধারণা করা হয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডেনমার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, তারা গ্রিনল্যান্ডকে চীন ও রাশিয়ার কথিত আগ্রাসনের ঝুঁকির মুখে ফেলে রেখেছে।
তিনি আর্কটির দ্বীপটির বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও দ্বীপটি দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন; গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্যে ওই ধরনের হুমকির ছিঁটেফোটাও ছিল না, বলছে বিবিসি।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ডবাসীকে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ৩০০ বছরেরও বেশি সময ধরে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ডেনিশরা আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির সুরক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে আত্তীকরণের যে প্রস্তাব দিচ্ছে, দ্বীপটির সিংগভাগ বাসিন্দাই যে তার সঙ্গে একমত নয় তা জানুয়ারিতে হওয়া এক জনমত জরিপে দেখা গেছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সফর গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্রদ্ধার ঘাটতিকেই’ দেখাচ্ছে।
ডেনমার্কের রাজা ফ্রেদরিকও গ্রিনল্যান্ডকে দখলে নেওয়ার মার্কিন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
“আমরা একটি ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাস করছি। গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে আমার সংযোগ যে অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহই নেই," বলেছেন তিনি।
শুক্রবারের সফরটি প্রথমে নির্ধারিত ছিল ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষার ‘সাংস্কৃতিক’ ভ্রমণ হিসেবে, মূলত সেখানে গিয়ে তার কুকুর-স্লেজ দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার কথা ছিল। কিন্তু এই সফর ঘিরে অনেকে নানান প্রতিবাদ কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকে ওই পরিকল্পনা বদলে ফেলা হয়।
শেষ পর্যন্ত ঊষার সঙ্গী হন তার স্বামী, তারা শুক্রবার গ্রিনল্যান্ড নামেন কয়েক ঘণ্টার জন্য, দ্বীপের দুর্গম উত্তরাঞ্চলে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটি ঘুরে দেখেন।
এর মধ্যেই জেডি ভ্যান্স ডেনমার্ককে একহাত নেন। বলেন, “ডেনমার্কের উচিত ছিল গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের খুবই আগ্রাসী অনুপ্রবেশের হাত থেকে রক্ষা করা।”
অভিযোগ করলেও, চীন-রাশিয়ার কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
৫৭ হাজার বাসিন্দার দ্বীপটিতে অব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ খনিজ ও তেলসম্পদ আছে বলে ধারণা করা হয়।
ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটির দখল নেবে না।
তার বদলে দ্বীপটির অধিবাসীদের ‘আত্ম মর্যাদায়’ বলীয়ান হয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
১৭২১ সাল থেকে ডেনমার্ক এ দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
“আমরা মনে করছি, আমরা একটি চুক্তি করতে পারবো, ডনাল্ড ট্রাম্প ধরনের চুক্তি, যা এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা (গ্রিনল্যান্ড) যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে বেছে নেবে বলে আমরা আশা করছি। কেননা, বিশ্বের মধ্যে আমরাই একমাত্র দেশ যারা তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে শ্রদ্ধা করি। তাদের নিরাপত্তা আদতে আমাদের নিরাপত্তাই,” বলেছেন তিনি।
শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানান ভ্যান্স, তবে নৌযান, সামরিক বাহিনীর বরফভাঙার যন্ত্রে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
“ডেনমার্কের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই সরল। তোমরা গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য ভালো কাজ করোনি। গ্রিনল্যান্ডের জনগণের ওপর আপনাদের বিনিয়োগ কম, এই অসাধারণ, সুন্দর ভূখণ্ডের নিরাপত্তায়ও আপনাদের বিনিয়োগ কম,” বলেছেন তিনি।
স্ত্রী ঊষা ছাড়াও ভ্যান্সের এ সফরে তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালটজ ও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
