২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হুন্ডাই অভিযানের পর আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করবে যুক্তরাষ্ট্র

জর্জিয়ায় হুন্ডাইয়ের কারখানায় হানা দিয়ে শত শত অবৈধ অভিবাসীকে আটকের পর আগামী দিনে আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কঠোর অভিযান হবে। বাড়বে ধরপাকড়।

হুন্ডাই অভিযানের পর আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করবে যুক্তরাষ্ট্র
ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2025, 08:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

অবৈধ অভিবাসীর খোঁজে  জর্জিয়ায় হুন্ডাই কারখানায় হানা দিয়ে শত শত জনকে আটকের পর এবার আরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কঠোর তল্লাশি অভিযানের নিশানা করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

সিএনএন-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউজের সীমান্ত বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা টম হোম্যান বলেন, “আমরা কর্মস্থলগুলোতে আরও বেশি অভিযান চালাব। কেউ যাতে অবৈধ অভিবাসীকে দয়া করে চাকরি না দেয়।

“তাদেরকে কাজে লাগানো হয়, কারণ তারা বেশি খাটে। কম মজুরি নেয় এবং মার্কিন নাগরিক কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দেয়।”

ট্রাম্পের কঠোর নীতির বিরোধীরা এবং কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, হসপিটালিটি ও মাংস প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ বড় বড় খাত অনেকাংশেই অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে কৃষি, হসপিটালিটি, মাংস প্যাকিংয়ের মতো বড় শিল্পের অনেক কারখানাই ট্রাম্পের পরবর্তী অভিযানের নিশানা হতে পারে।

জর্জিয়ায় হুন্ডাইয়ের ব্যাটারি কারখানায় হানাকে সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় তল্লাশি অভিযান বলা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার হুন্ডাই কারখানায় অভিযানে ৪৭৫ জনকে আটক করে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। অবৈধ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তারা। 

তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোববার সিউল জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আইসিই-এর এক কর্মকর্তা শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আটককৃতদের কেউ সীমান্ত অবৈধভাবে পার হয়েছেন, আবার কেউ ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে থেকে গেছেন। 

অন্য এক আইসিই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, অনেকের পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা ছিল, যেগুলোতে কাজ করার অনুমতি নেই। অভিযানটি এমন এক সময়ে হল, যখন ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। 

হুন্ডাইয়ের পর শিগগিরিই যুক্তরাষ্ট্রের আরও কারখানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হবে। বেছে বেছে খুঁজে বের করা হবে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের। ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, অপরাধ দমন ও অভিবাসন ঠেকাতে শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড ও ফেডারেল অফিসার পাঠানো হতে পারে।

 ট্রাম্প-বিরোধীরা কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের একেবারে সরিয়ে দিলে ভেঙে পড়তে পারে দেশের অর্থনীতি।