জাপানে ম্যানহোলে পড়ে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু
ম্যানহোলটির ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমেছিল। গ্যাসটি বাইরে বের হয়ে আসছিল।
জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছে নর্দমার পাইপ পরীক্ষা করার সময় ম্যানহোলে পড়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার পুলিশকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এমনটি জানিয়েছে বলে খবর আল জাজিরার।
এনএইচকে জানায়, টোকিওর উত্তরে সাইতামা প্রিফেকচারের গিওদা শহরে শনিবার ঘটনাটি ঘটে। ওই চারজনের সবার বয়স পঞ্চাশোর্ধ। তারা ও তাদের সহকর্মীরা মিলে নর্দমার ওই পাইপ পরীক্ষা করছিলেন।
শহরটির কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারিতে রাস্তায় একটি বিরাট গর্ত তৈরি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় পৌরসভাকে নর্দমার পাইপগুলো পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ পালন করতে শ্রমিকরা একটি জরুরি পরিদর্শনে নিয়োজিত ছিলেন।
এনএইচকে পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, পরিদর্শন চলাকালে একজন শ্রমিক ম্যানহোলে পড়ে যান, তার সহশ্রমিকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় আরও তিনজন পড়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যানহোলটি পাশপাশি ৬০ সেন্টিমিটার আর এর গভীরতা ১০ মিটারেরও বেশি। ওই এলাকার ফায়ার সার্ভিসও এ ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
এনএইচকের প্রকাশিত ভিডিও ক্লিপগুলোতে বেশ কয়েকজন জরুরি ও উদ্ধারকামী কর্মীকে ম্যানহোলটির কাছে দেখা গেছে।
জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ম্যানহোলের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। ম্যানহোলের ভেতরে বিষাক্ত এই গ্যাসটি প্রচুর পরিমাণে জমেছিল ও বাইরে বের হয়ে আসছিল।
তবে মৃত্যু হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে প্রথমজন কীভাবে ভেতরে পড়ে গিয়েছিলেন তা জানাতে অস্বীকার করেছেন শহরটির কর্মকর্তারা।
ওই চার শ্রমিককে ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন, জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
প্রায় ১০ জন শ্রমিককে ঘটনাস্থলে পাইপগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল, দরকার হলে তারা যেন পাইপগুলোতে থাক বর্জ্য কাদাপানি পরিষ্কার করে।
মে মাসে জাপানের উদ্ধারকারীরা সাইতামা প্রিফেকচারের ধসে যাওয়া এক রাস্তার গর্তে পড়ে কয়েক মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ৭৪ বছর বয়সী এক ট্রাক চালকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল।
