‘আজাদ’ কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নে জবাবদিহিতা দাবি জাতিসংঘের
‘আজাদ’ কাশ্মীরের আইনসভার নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করে জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ‘আজাদ’ কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি ও মানবাধিকার উদ্বেগ নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক। তিনি বলেন, সব এখতিয়ারভু্ক্ত এলাকার কর্তৃপক্ষকেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চালানো দমননীতির কারণে হওয়া সব ধরনের ক্ষতির তদন্ত হওয়া উচিত। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক গত মাসের প্রথমদিকে ‘আজাদ’ কাশ্মীরের আইনসভার নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তুর্ক পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শনের, মৌলিক অধিকার রক্ষা ও নথিভুক্ত সহিংসতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মুখে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে সামনে রেখে জুনের শুরু থেকে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় বিক্ষোভকারী ও আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষ নিহত হয়।
জাতিসংঘের হাইকমিশনার এসব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি। তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) –কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তুর্কের এসব উদ্বেগ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় ৮ অগাস্টের প্রেস ব্রিফিংয়ে ফারহান হক ওইসব মন্তব্য করেন।
হকে বলেন, “মহাসচিব তার হাইকমিশনারের কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর আমরা নিশ্চিতভাবেই আশা করছি যে জনাব তুর্কের আবেদনগুলো আমলে নেওয়া হবে।
“সব জায়গাতে সব কর্তৃপক্ষের জন্যই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমোদন দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ আর নিশ্চিতভাবে এখানেও বিষয়টি তেমনই। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য যদি লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এর জন্য জবাবদিহিতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।”
