আলেপ্পোতে সিরীয় সেনাবাহিনী ও এসডিএফ প্রাণঘাতী লড়াই থামাতে সম্মত
আলেপ্পোয় ধারাবাহিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় অন্তত দুই বেসামরিকের মৃত্যুর পর লড়াইবিরতির এ সিদ্ধান্ত এলো।
সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় প্রাণঘাতী লড়াই বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
আল-জাজিরা লিখেছে, ধারাবাহিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় অন্তত দুই বেসামরিকের মৃত্যুর পর লড়াইবিরতির এ সিদ্ধান্ত এলো।
সোমবার সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এসএএনএ (সানা) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর জেনারেল কমান্ড এসডিএফ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সিরিয়া সফরের সময় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল।
সোমবার ফিদান বলেছিলেন, চলতি বছরের মধ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার যে অঙ্গীকার এসডিএফ করেছিল, তা রক্ষা করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই বলে মনে হচ্ছে।
মার্চে দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তি অনুযায়ী, কুর্দি নেতৃত্বধীন এই বাহিনী সিরিয়ার নতুন সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত অস্পষ্ট ছিল আর এর বাস্তবায়নও থমকে গেছে।
সানার প্রতিবেদনের পর এক বিবৃতিতে এসডিএফ জানায়, উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনার পর তারা সিরীয় সরকারি বাহিনীর হামলার জবাব দেওয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এসডিএফ সিরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। তুরস্ক এই বাহিনীকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এর কারণ তুরস্কের নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে এসডিএফের সম্পর্ক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও পিকেকে-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তকমা দিয়ে রেখেছে। অপরদিকে এসডিএফ মূলত কুর্দিদের পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) এর যোদ্ধার নিয়ে গঠিত। মার্চে পিকেকের কারাবন্দি নেতা আব্দুল্লাহ ওচালনের আহ্বানে সংগঠনটি সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে।
