কমিউনিস্ট পার্টিকে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে: শি
কর্মীদের দলীয় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনকে শনাক্ত করার ও তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে অর্জিত অগ্রগতি রক্ষা করার পাশাপাশি অবশ্যই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাই খাইয়ে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বুধবার, ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দেওয়া ৪০ মিনিটের এক ভাষণে দলটির মহাসচিব শি এসব কথা বলেন।
রয়টার্স লিখেছে, মাও জে দংয়ের পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা শি কর্মীদের দলীয় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনকে শনাক্ত করার ও তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “চীনের উন্নয়ন বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে কৌশলগত সুযোগ, ঝুঁকি ও বাধা একসঙ্গে রয়েছে।”
শি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবেলায় দলের প্রচেষ্টাকে আরও ভালোভাবে সমন্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলের অগ্রগতি ও ‘বিশুদ্ধতার’ জন্য ক্ষতিকর দিকগুলো ও ‘দলের সুস্থ দেহকে ক্ষয়কারী সব ভাইরাস’ নির্মূল করতে সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনর্মিলন’ অর্জনের বিষয়েও কথা বলেছেন। এই লক্ষ্য পূরণে দলের কৌশল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
শি ২০১২ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি দলে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, সদস্যদের মধ্যে আনুগত্য ও অটল শৃঙ্খলা আনতে আর চীনের বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে কাজ করে চলছেন।
তিনি মাওয়ের পর চীনের সবচেয়ে বিস্তৃত দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অভিযানে শীর্ষ জেনারেলরাসহ সব স্তরের লাখ লাখ কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখোমুখি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় সব শীর্ষ সামরিক পদে দুর্নীতি দমন অভিযান চালানোর পর শি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এপ্রিলে ১০ সপ্তাহের জন্য রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষা কাযক্রমে পাঠান। তিনি এই কর্মকর্তাদের দলের বিশ্বাস, সংগঠন ও আদর্শের প্রতি অনুগত থাকার আহ্বান জানান।
১৯২১ সালে চীনের অল্প কয়েক ডজন বিপ্লবী দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই পার্টির সদস্য এখন ১০ কোটিরও বেশি, যা চীনের মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
চলতি সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, দলটির আকাঙ্ক্ষা হল এটিকে বিশ্বের ‘বৃহত্তম রাজনৈতিক দল’ থেকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলে’ পরিণত করা।
