২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সেনারা, ‘কর্তৃত্ববাদী চাপ’ প্রত্যাখ্যান মেয়রের

ট্রাম্পের নির্দেশের কারণে শহরটিতে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য এবং এর পাশাপাশি ৫০০-র মতো কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী এজেন্ট মোতায়েন হবে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সেনারা, ‘কর্তৃত্ববাদী চাপ’ প্রত্যাখ্যান মেয়রের
ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর ওয়াশিংটন মনুমেন্টের কাছে পার্ক করে রাখা ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকটি সাঁজোয়া যান। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2025, 02:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

সহিংস অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এমন যুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাজধানী শহরের পুলিশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার পরদিন ওয়াশিংটন ডিসির অনেক রাস্তায় বাহিনীটির সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চারপাশের শহুরে এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ন্যাশনাল গার্ডের সাঁজোয়া যান দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।  

ট্রাম্পের নির্দেশের কারণে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য এবং এর পাশাপাশি ৫০০-র মতো কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী এজেন্ট মোতায়েন হবে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। 

ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাট মেয়র মিউরিয়েল বাউসার তার শহরের অপরাধ ‘মোটেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি’ মন্তব্য করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনকে একটি ‘কর্তৃত্ববাদী চাপ’ আখ্যা দিয়েছেন। 

রিপাবলিকান ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক ও শিকাগোতেও ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এ দুটি শহরও ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত।  

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বাহিনীটির সদস্যরা ধীরে ধীরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ঢোকা শুরু করেন।

মঙ্গলবার তাদেরকে একাধিক সরকারি ভবনের বাইরের ব্যারিকেড সরাতে ও পর্যটকদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে। 

ফেডারেল এজেন্টরা সোমবার রাতে শহরটি থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট। ওই এজেন্টরা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।

হত্যাকাণ্ড, বন্দুকসংক্রান্ত অপরাধ, মাদকের কারবার, অশ্লীল কাজ, হেনস্তা, বেপরোয়া গাড়িচালানো ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বলেছেন লেভিট।   

“এটা কেবল শুরু। আগামী মাসের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটন ডিসির আইন ভঙ্গকারী, জননিরাপত্তা খর্বকারী ও আইন মেনে চলা আমেরিকানদের বিপদে ফেলা প্রত্যেক সহিংস অপরাধীকে খুঁজে বের করা ও গ্রেপ্তারে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে,” বলেছেন হোয়াইট হাউজের এ প্রেস সেক্রেটারি।

এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল পরে জানান, যতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার অর্ধেকের গ্রেপ্তারে এফবিআই এজেন্টরা জড়িত ছিল। 

ওয়াশিংটনের মেয়র ও শহরটির পুলিশ প্রধান দুজনই মঙ্গলবার বলেছেন, ফেডারেল এজেন্টদের মতো তাদেরও একই লক্ষ্য, অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনা। 

“ফেডারেল কর্মীদের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং আমাদের কাছে থাকা সিংহভাগ ফেডারেল কর্মকর্তাকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সেদিকেই নজর দিচ্ছি আমি,” মঙ্গলবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটাই বলেছিলেন বাউসার।  

আর মেট্রপলিটন পুলিশের প্রধান পামেলা স্মিথ বলেছিলেন, “আমরা জানি, আমাদের রাস্তাগুলো থেকে অবৈধ অস্ত্র সরাতে হবে, এখন যদি তাদের (ফেডারেল এজেন্ট) উপস্থিতি বাড়ে, তাহলে তা আমাদের শহরকে আরও ভালো রাখবে।”

কিন্তু মঙ্গলবার রাতে টাউন হলে দেওয়া বক্তৃতায় মেয়রকে ট্রাম্পের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা যায়।

“আমাদের শহর রক্ষায়, স্বায়ত্তশাসন রক্ষায়, নিজস্ব নিয়মকানুনের সুরক্ষায় এবং এই ব্যক্তির (ট্রাম্প) কর্মকাণ্ডের বিপরীতে দাঁড়াতে একটি ডেমোক্রেটিক হাউজ নির্বাচিত করতে হবে, যেন এই কর্তৃত্ববাদী চাপে ইতি টেনে দেওয়া যায়,” বাউসার এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।  

সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা লোগান সার্কেলে হওয়া এক হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন সশস্ত্র এক ব্যক্তিকে ধরতে রাজধানীজুড়ে চলা তল্লাশির মধ্যে বাউসার এসব বললেন। 

লোগান সার্কেল এলাকাটি হোয়াইট হাউজ থেকে মাইলখানেক দূরে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসিতে ১০০টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড হল বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।  

পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে শেষ যখন দেখা গেছে, তখন তার পরনে কালো শার্ট ছিল।

ওই গুলির ঘটনার পর সাবধানতাবশত মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসকে প্রেসিডেন্টের বাড়ির আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করতে হয়েছিল।   

ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রপলিটন পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে ২০২৩ সালে সহিংস অপরাধ চূড়ায় পৌঁছেছিল এবং গত বছর তা ৩৫ শতাংশ কমে তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।  

তবে ডিসি পুলিশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গ্রেগ পেমবার্টন এ তথ্যে আপত্তি জানিয়ে বলছেন, পুলিশ বিভাগ ইচ্ছা করেই অপরাধের সংখ্যা কম দেখিয়ে শহরের পরিস্থিতি তুলনামূলক নিরাপদ এমন এক ধরনের ভ্রান্ত কাহিনী নির্মাণ করছে, অন্যদিকে বাসিন্দারা ঠিকই ভুগছে।

এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্যেও গত বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের মাত্রা আগের বছরের তুলনায় ৯% কমেছে বলে জানানো হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হত্যাকাণ্ডের হার দেশটির অন্যান্য বড় শহরের গড়ের তুলনায় বেশি বলে একাধিক গবেষণায় ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।