৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

টাইফুন ‘ডলফিন’: প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিল চীন

টাইফুনটির প্রভাবে চীনের পূর্বাঞ্চজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জারি করা হয়েছে বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা।

টাইফুন ‘ডলফিন’: প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিল চীন
ওয়েনঝৌতে টাইফুন ডলফিন বয়ে যাওয়ার সময় প্রবল বাতাসে একটি ট্রাক উল্টে যায়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 03:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

টাইফুন ডলফিন স্থলে উঠে আসায় বাণিজ্য নগরী সাংহাইসহ পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার ঘরবাড়িগুলো থেকে প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে চীন। 

বিবিসি জানিয়েছে, এ টাইফুনটির প্রভাবে চীনের পূর্বাঞ্চজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার শুধু সাংহাইতেই প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। 

স্থলে উঠার পর কিছুটা দুর্বল হওয়ায় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ডলফিনকে ক্রান্তীয় নিম্নচাপে অবনমিত করছে। কিন্তু উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকা ঝড়টির প্রভাবে বুধবার পর্যন্ত তীব্র বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি বজায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান উপকূল দিয়ে টাইফুনটি স্থলে উঠে আসে। এ সময় ডলফিনের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর এটি ওয়েনঝৌ শহরের উপকূল দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলে উঠে আসে। 

পরবর্তীতে বিশাল রূপ নেওয়া এ ঝড়ের কারণে শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং প্রদেশ ও সাংহাই নগরীতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা আবহাওয়া বিশ্লেষকদের।

দুর্যোগের মধ্যে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রাখা হয়েছে সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ড, লেগোল্যান্ড ও বিখ্যাত ‘বান্ড’ এলাকার ভিউয়িং প্ল্যাটফর্মসহ বড় বড় পর্যটন কেন্দ্র। 

নগরীর পর্যটন কেন্দ্র ফ্রেঞ্চ কনসেশন এলাকার নিচতলার দোকানপাটে পানি ঢুকে গেছে এবং মানুষকে হাঁটু সমান পানি ভেঙে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিকে ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনলিং শহরে সমুদ্রিক ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও মৃত্যুর খবর জানায়নি চীন সরকার।

ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহর থেকেই প্রায় ৯ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ১ হাজারেরও বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া তাইঝৌ শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে।

ভারি বৃষ্টিতে সাংহাই নগরীর পর্যটন কেন্দ্র ফ্রেঞ্চ কনসেশন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, এতে নিচতলার দোকানপাটে পানি ঢুকে যায়। ছবি: রয়টার্স 

ভারি বৃষ্টিতে সাংহাই নগরীর পর্যটন কেন্দ্র ফ্রেঞ্চ কনসেশন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, এতে নিচতলার দোকানপাটে পানি ঢুকে যায়

ঝেজিয়াংয়ের রাজধানী হাংঝৌতে ঝড়ের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া গাড়ির জন্য সব সরকারি স্থানে পার্কিং ফি মওকুফ করা হয়েছে। উপকূল সংলগ্ন ফুজিয়ান প্রদেশে বেশ কয়েকটি ফেরি চলাচল বন্ধের পাশাপাশি শতাধিক নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এ টাইফুনটি স্থলভাগে উঠে আসার আগে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে, যা সাধারণ টাইফুনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি দীর্ঘ পথ। এর আকৃতি ও পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও ছিল অস্বাভাবিক রকমের বেশি।

ঝড় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে চীনের পুলিশ। 

এদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিওতে দাবি করেন, সাংহাইয়ে ঝড় থেকে বাঁচতে গিয়ে এক ব্যক্তি ভবন থেকে পড়ে গেছেন। 

অন্য এক যুবক অন্য ব্যবহারকারীদের ভিডিও বিভ্রান্তিকরভাবে এডিট করে পোস্ট করায় আটক হয়েছেন।

এদিকে চীনের বাইরে ফিলিপিন্সে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে হওয়া ভারি বর্ষণে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে সাত হাজারেরও বেশি দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। 

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে বাতাসের তোড়ে পড়ে গিয়ে পাঁচজন প্রবীণ আহত হয়েছে।

অন্যদিকে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট উষ্ণ বাতাসের কারণে হংকংয়ে রোববার সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

চলতি বছর শক্তিশালী ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টাইফুনগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।