২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইরান নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যে অস্পষ্টতা, তবে মারাত্মক ক্ষতির আভাস আছে: ট্রাম্প

ইরান যদি তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই।”

ইরান নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যে অস্পষ্টতা, তবে মারাত্মক ক্ষতির আভাস আছে: ট্রাম্প
নেদারল্যান্ডসের হেগে নেটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2025, 04:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর যেসব গোয়েন্দা তথ্য এসেছে তাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার মতো কিছু পাওয়া না গেলেও স্থাপনাগুলোর যে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার আভাস মিলেছে। 

মার্কিন বিমান হামলা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেনি, কেবল কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মূল্যায়নে এমনটি বলা হয়েছে বলে খবর বের হওয়ার পর বুধবার ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। 

তার আগে হোয়াইট হাউজ ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মূল্যায়নকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ অ্যাখ্যা দিয়েছিল। 

“গোয়েন্দা তথ্য ব্যাপক অস্পষ্টতা আছে, এটা থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, আমরা জানি না। এটা (ক্ষয়ক্ষতি) হতে পারে খুবই মারাত্মক। গোয়েন্দা তথ্য এমন আভাসই দিয়েছে,” নেটো সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

এর মধ্যে ইস্ফাহান ও নাতাঞ্জ ইসরায়েলি হামলাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও তেল আবিবের দিক থেকে দাবি এলেও পাহাড়ের নিচে মাটির অনেক অনেক গভীরে থাকা ফোরদো মোটামুটি অক্ষতই ছিল। 

এ স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য লাগে ইসরায়েলের। কেননা, ফোরদো স্থাপনাটি মাটির এত গভীরে অবস্থিত যে সেখানে পৌঁছাতে যে বোমা দরকার তা একমাত্র ওয়াশিংটনেরই আছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে এমওপি নামের ওই ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ফেলে যুক্তরাষ্ট্র।

তাদের হামলার পর উপগ্রহের ছবিতে ফোরদো স্থাপনার উপরে অবস্থিত পাহাড়ের গায়ে ছয়টি বড় বড় গর্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও মাটির নিচে স্থাপনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ট্রাম্প হামলার পর পুরো স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানালেও, মার্কিন হামলার এক-দুইদিন আগের উপগ্রহচিত্রে ফোরদোর প্রবেশপথে একাধিক যানবাহনের উপস্থিতি দেখে তেহরান আগেই স্থাপনাটিতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু করেন। 

এদিকে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, এমওপি ঠিকঠাক মাটির গভীরে থাকা স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে পেরেছে, নাকি কেবল স্থাপনাটির প্রবেশপথের কিছু অংশের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ।  

ট্রাম্প অবশ্য এসব শুনতে আগ্রহী নন। 

“ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সব ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ইরান যদি তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই।” 

মার্কিন আক্রমণ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা 'ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে'