‘মদে চুমুক দিয়ে নেচে দেখাও’, অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম নারী সিনেটরকে হেনস্থার অভিযোগ
অস্ট্রেলিয়ার হিজাব পরা প্রথম নারী সিনেটর ফাতিমা পেম্যান এক পুরুষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে তাকে অশোভন প্রস্তাব দিয়ে হেনস্থা করা ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে হিজাব পরা প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর ফাতিমা পেম্যান তার এক পুরুষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া ও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অভিযোগ এনেছেন।
ফাতিমা জানিয়েছেন, তাকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে মদ পান করে নাচার অশোভন প্রস্তাব দেন ওই সহকর্মী। মদ্যপ অবস্থায় ফাতেমাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “তোমাকে একটু ওয়াইন পান করাই, তারপর টেবিলে উঠে নাচো, দেখি”।
সিনেটর ফাতিমা পেম্যান বলেন, এ ধরনের মন্তব্য একজন মুসলিম নারী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত ‘অপ্রাসঙ্গিক ও অসম্মানজনক’ ছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রচারিত এবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিমা বলেন, “আমি মদ পান করি না।” তিনি জানান, “আমি স্পষ্টভাবে তাকে বলি—আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন, থামুন। আমি বিষয়টি নিয়ে এগুবো। এরপর আমি অভিযোগ দায়ের করেছি।”
৩০ বছর বয়সী সিনেটর ফাতিমা পেম্যান বলেন, "এখনকার প্রজন্ম আগের মতো মুখ বুজে সহ্য করে না।" ফাতিমার অভিযোগ, তাকে হেনস্থা করেছেন আইনসভার ঊর্ধ্বতন সদস্য ওই পুরুষ সহকর্মী।
তিনি জানতেন, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে ফাতিমা হিজাব পরেন। মদ স্পর্শ করেন না। তারপরও তার সঙ্গে এই ‘দুর্ব্যবহার’ করা হয়েছে। এতে তার সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকা জানায়, ২০২২ সালে ২৮ বছর বয়সে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে প্রথম হিজাব পরা পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন ফাতিমা পেম্যান।
তবে গাজায় যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে ২০২৪ সালে দলত্যাগ করেন তিনি। তার পর থেকে ফাতিমা নির্দল সিনেটর।
তার অভিযোগ এরই মধ্যে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে আইনসভার বিশেষ কমিটি ‘পার্লামেন্টরি ওয়ার্কপ্লেস সাপোর্ট সার্ভিস’ বা পিডব্লুউএসএস।
পার্লামেন্টে যৌন হেনস্থা, শারীরিক বা মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত করে থাকে এই কমিটি। ফতিমা বলেন, ‘‘পিডব্লিউএসএস অভিযোগ গ্রহণ করেছে। আমার বিশ্বাস, তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’’
আফগানিস্তনে জন্ম নেওয়া ফাতিমা পেম্যান পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হন। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বিভিন্ন সংশোধনী আনতে সোচ্চার এই আফগান নারী।
বিশেষ করে পার্লামেন্টের ভেতরে নারী সদস্যদের প্রতি আচরণ নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন। ২০২২ সালে তাকে ‘অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম রোল মডেল অব দ্য ইয়ার’ তকমা দেওয়া হয়।
