২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চীনে প্রথম ঐতিহাসিক সফরে থাইল্যান্ডের রাজা

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন এ সফর করছেন।

চীনে প্রথম ঐতিহাসিক সফরে থাইল্যান্ডের রাজা
থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Nov 2025, 08:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন বুধবার চীনে পৌঁছেছেন। চীনে কোনও থাই রাজার এটিই প্রথম সফর।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ভাজিরালংকর্ন এ সফর করছেন। 

১৯৭৫ সালে থাইল্যান্ড ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তারপর এই প্রথম চীনে পদার্পন করলেন থাইল্যান্ডের রাজা।

কয়েক বছর ধরেই চীন এই সফরের জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। থাই সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সফর ‘দুই দেশের সব স্তরে গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সামনে এনেছে।’

সফরকালে থাই রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তার স্ত্রী রানি সুথিদা রাজধানী বেইজিংয়ে লিংগুয়াং বৌদ্ধ মন্দির ও বেইজিং অ্যারোস্পেস সিটি ঘুরে দেখবেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি ও তার স্ত্রী থাই রাজদম্পতির সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ আয়োজন করবেন।

থাইল্যান্ডে সিংহাসনে আরোহনের নয় বছর পর এটিই রাজা ভাজিরালংকর্নের প্রথম বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় সফর। চলতি বছর এপ্রিল মাসে তিনি ভুটানও সফর করেছিলেন। 

অন্যদিকে, ভাজিরালংকর্নের বাবা রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের বড় সফর ছিল ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে, যখন স্নায়ুযুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ইন্দোচায়না অভিযানের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হত।

থাইল্যান্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সামরিক মিত্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। 

অপরদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়েছে; বিশেষ করে থাইল্যান্ডের মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা, ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, এবং এশীয় বন্ধুদেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেই- এমন ধারণার কারণে।

চীন এখন থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তাছাড়া, সামরিক সরঞ্জামের উৎস হিসেবে ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে চীন।

অনেক থাই নাগরিকের পূর্বপুরুষ চীনা বংশোদ্ভূত, আর বেইজিং প্রায়ই এই সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ এবং ‘পারিবারিক’ বলে বর্ণনা করে।

চীনের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। এবছরের শুরুর দিকে থাই সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সতর্কতা উপেক্ষা করে ৪০ জন উইঘুর আশ্রয়প্রার্থীকে চীনে ফেরত পাঠায়। 

অগাস্টে ব্যাংককের প্রধান শিল্পকলা কেন্দ্রে উইঘুর ও তিব্বতী শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীও চীনা কূটনীতিকদের আপত্তির মুখে সেন্সর করা হয়।

মিয়ানমার সীমান্তে প্রতারণা চক্র দমনে থাইল্যান্ডের পদক্ষেপ ও দেশটিতে ক্যাসিনো বৈধ করার প্রস্তাব আটকে যাওয়ার পেছনেও চীনের আপত্তি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে কোনও থাই রাজা চীন সফরে না গেলেও দুই দেশের সম্পর্ক রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন থাই রাজা ভাজিরালংকর্নের বোন রাজকুমারী সিরিনথর্ন। তিনি গত ৪৫ বছর ধরে চীনা ভাষা ও শিল্পকলা নিয়ে পড়াশুনা করছেন এবং নিয়মিত চীন সফর করে আসছেন।