০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআইতেও জেন্ডার বৈষম্য: নারী বট পাচ্ছে কম বেতন

এআই এজেন্টগুলোর পেছনের প্রযুক্তি হুবহু একই হওয়ার পরও নারী বটগুলোকে একই কাজ করার জন্য পুরুষ বটগুলোর চেয়ে ১০ শতাংশ কম বেতন মিলেছে।

এআইতেও জেন্ডার বৈষম্য: নারী বট পাচ্ছে কম বেতন

গবেষণার ফলাফল কর্মক্ষেত্রে বর্তমান লিঙ্গ বৈষম্যেরই বাস্তব প্রতিফলন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 03:12 PM

Updated : 07 Oct 2026, 03:11 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেলাতেও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ভার্চুয়াল রিয়ালিটি’ বা ভিআর অফিসে কর্মরত মানুষেরা পুরুষ এআই এজেন্টদের কাজের জন্য নারী এজেন্টদের তুলনায় বেশি পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত।

‘ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিক’-এর গবেষকদের পরিচালিত গবেষণায় উঠে এসেছে, এআই এজেন্টগুলোর পেছনের প্রযুক্তি হুবহু একই হওয়ার পরও নারী বটগুলোকে একই কাজ সম্পন্ন করার জন্য পুরুষ বটগুলোর তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক মিলেছে।

গবেষণার সহ-লেখক ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিক’-এর ডা. মেরি হাউজফেল্ড বলেছেন, “আমাদের গবেষণা বলছে, এআই এজেন্টগুলোর ভেতরের প্রযুক্তি হুবহু একই ছিল। তবে মানুষ এদের সঙ্গে একরকম আচরণ করেনি।

“আমরা এআইকে নিরপেক্ষ হিসেবে মনে করলেও এসব সিস্টেম যেভাবে ডিজাইন ও মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয় তা অন্যান্য মানুষের সঙ্গে আমাদের মিথস্ক্রিয়ায় একই ধরনের অনুমান ও আগাম সংস্কারকে উসকে দিতে পারে।”

গবেষণায় ১৮৯ জন মানব অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছিলেন। তারা ‘যোহান’ নামের এক পুরুষ এআই এজেন্ট ও ‘জোয়ানা’ নামের এক নারী এজেন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন।

অংশগ্রহণকারীরা কেবল যোহানকে বেশি পারিশ্রমিকই দেননি, বরং একে জোয়ানার চেয়ে অধিক মানবসুলভ বলেও মনে করেছিলেন।

গবেষকরা বলছেন, গবেষণার ফলাফল কর্মক্ষেত্রে বর্তমান লিঙ্গ বৈষম্যেরই বাস্তব প্রতিফলন।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের মধ্যবর্তী ঘণ্টার আয় সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুসারে, গেল বছর দেশটিতে কর্মীদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক বেতনের ব্যবধান ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

সমান যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার নারী ও পুরুষ কর্মীরা একই ধরনের চাকরিতে থাকলেও তাদের মধ্যে বেতনের ব্যবধান ১ থেকে ২ শতাংশ হয়।

আইটি কনসালটেন্সি ফার্ম ‘অ্যাকসিলেরেট’-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে, যার ফলে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষণার সহ-লেখক ডা. মেরি হাউজফেল্ড বলেছেন, “কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্টগুলোর ব্যবহার যত বাড়ছে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে চিন্তা করতে হবে যে, আমরা এদের কী ধরনের বৈশিষ্ট্য দিচ্ছি ও এসব পছন্দ কেমন আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে।

“আমরা কোনোভাবেই চাই না, একটি নতুন প্রযুক্তির ছদ্মবেশে অসাবধানতাবশত সমাজে থাকা বৈষম্যগুলোই আবার পুনরায় তৈরি হোক।”

‘হিউম্যান-লাইক অ্যান্ড মেল? হাও এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজাইন রিলেটস টু ট্রাস্ট অ্যান্ড মনিটারি রিওয়ার্ড অ্যাট ওয়ার্ক ইন ভিআর’ শিরোনামে গবেষণাটি ফিনল্যান্ডের ভাসা শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন’-এর ১৪তম নর্ডিক কনফারেন্সে উপস্থাপিত হবে।