জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে ‘স্প্যামোফ্লাজ চালাচ্ছে’ চীন
‘স্প্যামোফ্লাজ’ প্রচারণা বলতে এমন কোনো নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যারা নতুন বা অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে থাকে।
চীনের বিরুদ্ধে ‘স্প্যামোফ্লাজ’ প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছে কানাডার সরকার। দেশটির দাবি, প্রধান মন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো’সহ পার্লামেন্টের বেশ কিছু সদস্যের সামাজিক মাধ্যমকে টার্গেট করা হয়েছে এতে।
‘স্প্যামোফ্লাজ’ প্রচারণা বলতে এমন কোনো নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যারা নতুন বা অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, মিডিয়াম, রেডিট, টিকটক এমনকি লিংকডইনও।
২০১৮ সাল থেকেই কানাডা ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে। এমনকি রাজধানী অটোয়া প্রায়শই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোপন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে থাকে। তবে, এমন সকল অভিযোগ নাকচ করে আসছে চীন।
কানাডার সরকারি বিভাগ ‘গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি)’র বৈদেশিক গুজব নজরদারি সংস্থা ‘র্যাপিড রেসপন্স মেকানিজম (আরআরএম)’ বলেছে, এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যের সমালোচকদের কণ্ঠ রোধ করা।
সোমবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গুজবের প্রচারণা শুরু হয়েছিল এ বছরের অগাস্ট থেকে। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, বিশেষ করে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আইনপ্রণেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে এতে।
জিএসি বলেছে, বট নেটওয়ার্কটি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেপ্টেম্বরের দীর্ঘ সপ্তাহান্তে। আর নেটওয়ার্কটি থেকে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ইংরেজি ও ফরাসি উভয় ভাষায় হাজার হাজার কমেন্ট করা হয়েছে।
“এই প্রচারণা এমপিদের দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের কাজ করা জটিল করে তুলতে পারে। আর শুধু এমপিরাই নয়, বরং প্রবাসীরাও নানা বিষয়ে কথা বলার উৎসাহ হারাবেন।”
কানাডায় চীনা দূতাবাস বিবৃতিতে বলেছে, বেইজিং কখনও অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায়নি। আর এমন অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ প্রচারণা’ ও কানাডাকে ‘সরাসরি মিথ্যাবাদী ও ভুল তথ্য প্রচারকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে দপ্তরটি।
“বেশ কিছু দিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে কানাডার রাজনীতিবিদদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ পদক্ষেপ নিজেই ভুল তথ্যের হোতা। আর এর কোনো প্রত্যক্ষ বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও নেই।” --বলেছে দূতাবাস।
জিএসি বলেছে, এই প্রচারণার বিভিন্ন পোস্টের সঙ্গে কানাডায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ একজন সমালোচক জড়িত, এবং তারা প্রচার করছেন কানাডার এমপিরা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নৈতিক লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত।
সংস্থাটির মতে, চীনা এই প্রচারণায় ‘ডিপফেইক’-এর মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গোটা কানাডায় ৪৭ জন এমপি এই প্রচারণার শিকার।
প্রচারণার শিকার এমপিদের পাঠানো ইমেইল বার্তায় জিএসি’র কর্মকর্তারা বলেছেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, এই প্রচারণা চালানো হয়েছে আপনাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে। তবে, এতে আপনার বা আপনার পরিবারের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।”
