২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন প্রযুক্তির সঙ্গে টালবাহানা করলেই শুল্ক বসিয়ে দেব: ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাদের অসাধারণ সব প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে যেসব দেশ আক্রমণাত্মক আচরণ করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেব আমি।”

মার্কিন প্রযুক্তির সঙ্গে টালবাহানা করলেই শুল্ক বসিয়ে দেব: ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেছেন, “আমেরিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন আর বিশ্বের ‘পিগি ব্যাংক’ বা ‘পায়ের তলার পাপোস’ নয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2025, 05:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

যেসব দেশ গুগল, মেটা, অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর কর, আইন বা কড়াকড়ি নিয়ম-কানুন চাপিয়ে দিচ্ছে সেসব দেশের ওপর শুল্ক ও রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “ডিজিটাল কর, আইন, নিয়ম বা বিধিনিষেধ– এসবই মূলত আমেরিকান বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ক্ষতি করা বা তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের উদ্দেশ্যে তৈরি।”

তিনি আরও বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরও যুক্তরাজ্য নিজেদের ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্সের মাধ্যমে প্রতি বছর বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে রাজস্বের ওপর দুই শতাংশ হারে প্রায় একশ ১০ কোটি পাউন্ড কর আদায় করছে। অথচ, এসব কর থেকে “চীনের বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে পুরোপুরি ছাড় দিচ্ছে তারা, যা লজ্জাজনক।”

“যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাদের অসাধারণ সব প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে যেসব দেশ আক্রমণাত্মক আচরণ করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেব আমি।

“এসব বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ যদি তুলে না নেওয়া হয় তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি ওই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং আমাদের মূল্যবান প্রযুক্তি ও চিপ রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করব।”

ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, ট্রাম্পের এ হুমকি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ তৈরি করছে। কারণ এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। অথচ একই সময়ে আমেরিকার বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির রাশ টেনে ধরতে তাদের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ নামের আইনও চালু রেখেছে। এতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র, যেমন ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনও নিজেদের দেশে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’ চালু করেছে, যা আমেরিকান বিভিন্ন কোম্পানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া যুক্তরাজ্যের ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’-এর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরও এ কর আইন চালু রেখেছে যুক্তরাজ্য।

ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, গোটা বিশ্বের ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’ আমেরিকান বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফেব্রুয়ারিতে এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প, যার শিরোনাম ছিল ‘বিদেশ থেকে হয়রানি ও অন্যায় জরিমানা থেকে আমেরিকান কোম্পানি ও উদ্ভাবকদের রক্ষা করা’। এতে তিনি হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে এর জবাব দেবেন তিনি।

এদিকে, এপ্রিলে ট্রাম্পকে শান্ত করার জন্য আমেরিকান বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর থেকে করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে একই সময়ে, অন্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ওপর সেই কর চালু রেখেছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, “আমেরিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন আর বিশ্বের ‘পিগি ব্যাংক’ বা ‘পায়ের তলার পাপোস’ নয়। আমেরিকা ও আমাদের অসাধারণ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতি সম্মান দেখানো না হলে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।”

ট্রাম্পের এই হুমকি এমন সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে ‘অবিচারপূর্ণ বাণিজ্য বাধা’ দূর করবে তারা।

তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আলাদাভাবে বলেছে, ডিজিটাল নিয়ম-কানুন পরিবর্তনের কোনও প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি।