মাস্কের ক্ষোভ: তথ্যচিত্র নির্মাতাকে বললেন, ‘তেতো বুড়ো’
ইলন মাস্কের জীবন ও প্রভাব নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের আগে, এনরনের পতন, উইকিলিকস ও ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়েও তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন এই নির্মাতা।
ইলন মাস্কের জীবন ও প্রভাব নিয়ে নির্মিত চার ঘণ্টার একটি তথ্যচিত্রের পরিচালক অ্যালেক্স গিবনিকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, নিজের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটির পরিচালককে ‘শূন্য সততার একজন তেতো বুড়ো’ বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক।
এর আগে, এনরনের পতন, উইকিলিকস ও ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করা গিবনি এ সপ্তাহে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে মাস্ককে নিয়ে তৈরি নিজের এ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার করেছেন।
গিবনির মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি ‘বিপদজনক’।
২০২২ সালে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কেনা নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একের পর এক পোস্টে এ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তথ্যচিত্রটিকে ‘ব্যর্থ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
চার ঘণ্টার দীর্ঘ তথ্যচিত্রটি ‘বিরক্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন মাস্ক।
এ ছাড়া, মাস্কের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিতও মিলেছে। তিনি এমন এক গ্রাফিক বা ছবি রি-পোস্ট করেছেন, যেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে একটি পুতুল হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সেই পুতুলটি আবার প্রগতিশীল নানা কার্যক্রমে অর্থায়নকারী শতকোটিপতি জর্জ সোরোসের অনুসারীদের লেবেলওয়ালা ‘টিম সোরোস’ নামের আরেকটি পুতুলকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
ছবিটিতে দেখা গেছে, সেই দ্বিতীয় পুতুলটি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘অ্যালেক্স গিবনি’ লেখা আরেকটি পুতুলকে এবং গিবনির পুতুলটি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘হলিউড’ লেখা শেষ পুতুলটিকে। ওই ছবিটি শেয়ার করে মাস্ক লিখেছেন, ‘একেবারে নির্ভুল’।
এদিকে, মাস্কের এক সমর্থক মন্তব্য করেছেন, মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র বানানোর আগে তিনি কখনো গিবনির নাম শোনেননি।
এর জবাবে মাস্ক লিখেছেন, “এটা সাই-অপ’, যা মানুষের চিন্তাধারার ওপর প্রভাব ফেলতে পরিকল্পিত কোনো ‘মনস্তাত্ত্বিক অভিযান’কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
মাস্ক লিখেছেন, “গিবনির সততা বলতে কিছু নেই। একবিন্দুও নেই। তার সিনেমাগুলো চরম বিরক্তিকর... এটা একটা ব্যর্থ অপপ্রচারের চেষ্টা, যার সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে এটা চার ঘণ্টা ধরে মানুষকে বিরক্ত করেছে।
“গিবনি এমন কিছু মানুষের একটা তালিকা বানিয়েছেন, যাদের ওপর হয় তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ আছে বা যারা আমাকে চেনেই না কিন্তু তাদেরও ক্ষোভ রয়েছে... তিনি একজন তেতো বুড়ো মানুষ, যিনি অনেক আগেই পথ হারিয়েছেন।
“কুকুরের এক টুকরা মলেরও গিবনির চেয়ে বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা আছে।”
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এনপিআর বলেছে, মানহানির অভিযোগে গিবনির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মাস্কের আইনজীবী।
চলচ্চিত্রটি প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকেই যেমন আলোচনা তৈরি করেছে তেমনই এতে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের দাবিগুলোও বেশ আলোড়ন তুলেছে।
মাস্কের সাবেক সঙ্গী ও সাবেক মাগা ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ারের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন মাস্ক।
অ্যাশলে দাবি করেছিলেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে মুখ না খুলতে মাস্কের টিম তাকে চার কোটি ডলারের গোপন এক চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
মাস্ক এ বিষয়ে লিখেছেন, “তাকে কখনোই এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং তার মিথ্যা দাবি করার পুরনো রেকর্ড আছে।”
এ ছাড়া, পডকাস্টার কেটি মিলারের একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন মাস্ক। কেটি মিলার ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী ও মাস্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক।
ওই তথ্যচিত্রে মাস্কের পরিচিতজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতামত বা উপস্থিতি যথাযথভাবে না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কেটি।
