১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

কিশোর বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে চান মাক্রোঁ

তরুণদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমকে দায়ী করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।

কিশোর বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করতে চান মাক্রোঁ
‘শিশু ও টিনএজারদের সামাজিক মাধ্যম ও ফোনের স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব’ থেকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jan 2026, 06:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

অস্ট্রেলিয়ার পর এবার ফ্রান্স সরকার কিশোর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করছে।  

ফরাসি সংবাদপত্র লা মদঁ-এর বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং হাই স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

শিশুদের ওপর ইন্টারনেটের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে জনমনে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স এ পরিকল্পনা করছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তরুণদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমকে দায়ী করে থাকেন। ফ্রান্স এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করতে চায় বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেইসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের মত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মদঁ ও ফ্রান্স ইনফোর প্রতিবেদন বলছে, এ বিষয়ে একটি আইন করার জন্য জানুয়ারির শুরুর দিকেই খসড়া জমা দেবে সরকার।

নতুন বছরের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে এ নতুন আইনের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি মাক্রোঁ। তবে তিনি ‘শিশু ও টিনএজারদের সামাজিক মাধ্যম ও ফোনের স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব’ থেকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রয়টার্স লিখেছে, ওই আইনের বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ফ্রান্সের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৮ সাল থেকেই মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ রয়েছে। নতুন আইন হলে হাই স্কুলেও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।

২০২৩ সালেও একটি আইন পাস করেছিল ফ্রান্স, যেখানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য মা-বাবার অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত নানা জটিলতার কারণে সেই আইনটি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইইউর জোরালো পদক্ষেপ চান মাক্রোঁ

২০২৫ সালের জুনে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের একটি স্কুলে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পুরো দেশ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনার পর মাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১৫ বছরের কম বয়সী সবার জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে কঠোর আইন করতে চাপ দেবেন তিনি।

টিনএজারদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। সেখানে বলা হয়, কোন দেশে এই বয়সসীমা কত হবে, ওই দেশের সরকারেই তা ঠিক করবে।

রয়টার্স লিখেছে, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ এমন এক সময়ে নতুন বছরে পদার্পণ করছেন, যখন তার বিভিন্ন রাজনৈতিক অর্জন প্রায় ধ্বংসের মুখে। ২০২৪ সালে তার আগাম নির্বাচন দেওয়ার রাজনৈতিক জুয়া চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সেই নির্বাচন ‘ঝুলন্ত’ পার্লামেন্টের জন্ম দিয়েছে, যা ফ্রান্সকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তবে জনমত জরিপ বলছে, মাক্রোঁ যদি এখন কিশোর বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেন, তাহলে সে সিদ্ধান্ত জনপ্রিয়তা পেতে পারে। 

২০২৪ সালে ‘হ্যারিস ইন্টারঅ্যাক্টিভ’-এর এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রায় ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা সামাজিক মাধ্যমে ১৫ বছরের কম বয়সীদের নিষিদ্ধের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন।